প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাকির হোসেন তপন:  পণ্ডিত রবি শংকর, আলী আকবর খান, জর্জ হ্যারিসনরা যে কাজটি করে দেখিয়েছিলেন তেমন কিছু কি আমরা ইব্রাহিম      জুরদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম? 

জাকির হোসেন তপন: [১] একটা ব্যাঙ্গকাটুন দেখেছিলাম, প্রশ্নকর্তা বলছেন কে কে দেশে শরিয়াহ্ আইন চালু দেখতে চান? উপস্থিত সবাই হাত তুলে জানালো তারা চায়! পরের প্রশ্ন- কে কে সৌদি আরবে স্থায়ীভাবে থাকতে চান? উপস্থিত সবাই নিশ্চুপ! পরের প্রশ্ন- কে কে ইউরোপ ও আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে থাকতে চান? সবাই দুই হাত তুলে জানালো তারা এই পশ্চিমা সভ্যতার দেশগুলোতে থাকতে চান!

[২] ছোটবেলা থেকেই আমরা দেখে আসছি এমনকি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত  পরিবারেও যে ছেলেটির কোনো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করবার সুযোগ মেলে না, তাকে (আল্লাহ্র ওয়াস্তে!) ভর্তি করে দেওয়া হয় মাদ্রাসায়। এখানে খরচ কম, ক্ষেত্র বিশেষে খরচ নেই। মেধা, মাথার কোনো ব্যাপার নেই। শুধু মুখস্ত করা। এসব পড়ালেখা তাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগে না। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সাহিত্য, স্থাপত্যকলা, চিকিৎসা বিজ্ঞান কোনো কিছুতেই এই মানুষগুলো অংশগ্রহণ করতে পারেন না! অথচ আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, দর্শন সবকিছুর অবদান আর আবিষ্কার তারা ব্যবহার করে যান অবলীলায়। কিছু হুজুর আছেন জীবনভর ভিন্ন ধর্মের মানুষদের গালাগাল করে এসেছেন, তারাও এখন তাদের ওয়াজ- বক্তব্য ইত্যাদি প্রচার করেন ইউটিউবে, ফেসবুকে। কে না জানে ফেসবুক, ইউটিউব এসবে কাদের মালিকানা!

[৩] ইদানিং কয়েকজন হুজুর নিয়ে প্রায়ই নানা পোস্ট চোখে পড়ে। ইব্রাহিম হুজুর, আজহারী ইত্যাদি। আজ এই ইব্রাহিম হুজুরের এক বয়ান শুনলাম/দেখলাম; সংগীতকে তিনি কতোটা কদর্য ভাষায় উপস্থাপন করছেন। মনে পড়লো মহাত্মা হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, ‘একটি ধর্মান্ধের মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, আল্লাহ্ একে পছন্দ করতে পারেন না।’ লেখাপড়া জানা মানুষ মাত্রেই জেনে থাকবেন, সংগীতের যখন উৎপত্তি তখন বর্তমানকালের কোনো ধর্মের নাম গন্ধও এই গ্রহে ছিলো না। এই আধুনিক সভ্যতার কালে সভ্য/উন্নত দেশের মানুষ সাহিত্যে, সংগীতে, চিত্রকলায়, স্থাপত্যকলায় মানব জীবনকে প্রতিনিয়ত করে তুলছেন আরও সুন্দর, আরও বৈচিত্র্যময়। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই বিভীষিকাময় দিনে সুদুর আমেরিকায় (যদিও রাষ্ট্র হিসেবে তখন আমেরিকা রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষে) বসে পণ্ডিত রবি শংকর, আলী আকবর খান, জর্জ হ্যারিসনরা যে কাজটি করে দেখিয়েছিলেন তেমন কিছু কি আমরা এসব ইব্রাহিমদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম?

[৪] মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, এই ধরনের পশ্চাদপদ, জাতির জন্য লজ্জাকর এই ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন দয়া করে। আমি জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজে একজন অত্যন্ত উচ্চ রুচি সম্পন্ন সংস্কৃতি মনোভাবাপন্ন বাঙালি। আপনি ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের একজন প্রাক্তনিও। সেজন্য আমরা শিক্ষিত সংস্কৃতি কর্মীরা গর্বিত। আপনি নিশ্চয়ই কিছু নিন্মমানের মানুষকে এমন সুযোগ দেবেন না যে সে/তারা বিনা বাধায় মানুষের সুস্থ জীবনকে কলুষিত করে যাবে সারাজীবন ধরে! আপনার সুস্থ ও নিরুপদ্রব জীবন কামনা করি। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত