প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পঞ্চম দফায় দ্বিতীয় দিনে ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে ১৭৬২ রোহিঙ্গা

কায়সার হামিদ : [২] কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থেকে পঞ্চম দফায় দ্বিতীয় দিনে ভাসানচরের উদ্দেশে ১৭৬২ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ২১ টি বাস যোগে ১১০০ শ রোহিঙ্গা উখিয়া ত্যাগ করেন।বিকাল ৪ টার দিকে আরো ১৫ টি বাসে করে ৬৬২ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন বলে কক্সবাজার অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন শামসুদ্দৌজা নয়ন নিশ্চিত করেছেন।

[৩] কক্সবাজার শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান,মঙ্গলবার ও বুধবার ২ দিনে ৪ হাজার ২২ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন।

[৪] তিনি আরও জানান,মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে আরো একটি রোহিঙ্গারর বড় দল ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসন কাজ করছে।

[৫] বুধবার (৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টা ও বিকাল ৪ টার দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে এসব বাস উখিয়া ত্যাগ করেন। প্রশাসন ভাসানচরের যাওয়ার উদ্দেশে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ট্রানজিট পয়েন্ট ক্যাম্পে তাদের খাবার,পানি,ঔষধ দেন।

[৬] ভোর থেকে ২০ টি মিনিবাসে করে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প ১৭,৮,৯,১০,১১,১২,১৩,১৪,১৫ ও ১৬ নং ক্যাম্প থেকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ট্রানজিট পয়েন্ট ক্যাম্পে নিয়ে আসেন সংশ্লিষ্টরা।তাদের মালামাল বহনকারী ১৫ টি কার্গো সঙ্গে ছিলেন। এছাড়াও রোহিঙ্গা বহরের আগে পিছনে ছিলেন এম্বুলেন্স ও আইনশৃংখলা বাহিনীর গাড়ি বহর।

[৭] সূত্রে জানা গেছে, সকালে ২,২৬০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের ট্রলারে করে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

[৮] এসব রোহিঙ্গাদের বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের ট্রলারে করে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছেন।

[৯] উল্লেখ্য, এর আগে চতুর্থ দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে ১০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।

[১০] এছাড়া নতুন-পুরনো মিলে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

[১১] সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

[১২] জানা যায়,২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমান থেকে পালিয়ে আসা উখিয়া-টেকনাফের বসতি স্থাপন করা রোহিঙ্গারা এখন নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে চলে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক দৃর্শ্যো ঘেরা নান্দনিক ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে গড়ে তুলেছে উন্নত মানের বসতবাড়ি। গত বছর রোহিঙ্গা নেতাদের একটি দল ভাসানচরে গড়ে উঠা বসতবাড়ি এবং সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যায়।

[১৩] রোহিঙ্গা নেতারা তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের তৈরি করা বসতবাড়ির চিত্র গুলো ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের কাছে বিশ্লেষন করলে বস্তিতে গাদাগাদি করে থাকা রোহিঙ্গারা সেচ্ছায় ভাসানচর চলে যেতে আগ্রহী হয়ে উঠে।১৫ নং ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়া নুরুল আমিন,খতিজা বেগম জানান,রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাদাগাদি করে থাকার চেয়ে ভাসানচর অনেক ভালো হবে তাই আমরা চলে যাচ্ছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত