প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চট্টগ্রাম রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করেছে রাউজানের ব্রিকফিল্ড মালিক ও শ্রমিকরা

শাহাদাত হোসেন: [২] চট্টগ্রাম রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাউজান উপজেলার ৫২টি ইটভাটার কয়েকশ মালিক ও কয়েক হাজার শ্রমিক।

[৩] বুধবার (৩ মার্চ) চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রাউজান সদর মুন্সিরঘাটা থেকে জলিল নগর বাস স্টেশন পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ দু" কিলোমিটার জুড়ে এই বিশাল মানববন্ধন করেন তারা। মানব বন্ধনের নেতৃত্ব দেন সমন্বয়ক সংগঠক সুমন দে।

[৪] এসময় শ্রমিকরা গণমাধ্যমকে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা আজ সংসারের ভরণ-পোষণ নিয়ে চিন্তিত। কিভাবে আমরা নিজে খাব, পিতা-মাতা, ছেলে, সন্তানকে খাওয়াব, সংসার চালাবো, ভবিষ্যত কি হবে তা খুঁজে পাচ্ছি না।

[৫] বক্তারা বলেন, ইট ভাটায় দৈনিক ও মাসিক মজুরিতে, ড্রাইভার ও হেলপার শ্রমিক, রং মিস্ত্রি শ্রমিকসহ আরো বিভিন্ন খাতে কাজ করছে ১ লাখের বেশি লোক। চট্টগ্রামে সর্বমোট ২৮০টিরও বেশি ইটভাটা রয়েছে। যার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’মুঠো আহার তুলে দিচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। সেই সঙ্গে এই ২ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক পরিবারের কয়েক লাখ মানুষের আহার জুটে। এখন গুঁড়িয়ে দেওয়া ইটভাটার সেই শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যত অন্ধকার।

[৬] বক্তারা আরো বলেন, একটি ইটভাটা চালু করতে প্রতি বছর দেড় কোটি টাকা একটি বড় অংকের টাকা শ্রমিকদের অগ্রীম পরিশোধ করতে হয়। এজন্য নিতে হয় ব্যাংক থেকে ঋণ। তাছাড়া চট্টগ্রামের ২৮০টি ব্রিক ফিল্ড প্রতি বছর ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকার ভ্যাট দিয়ে থাকে। তাছাড়া ভূমি, ট্রেড লাইসেন্স, আয় কর, স্থানীয় করসহ বিভিন্ন কিছু প্রদান করে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এসব ব্রিকস ইন্ডাষ্ট্রি। কিন্ত অতন্ত পরিতাপের বিষয়, পুরো বাংলাদেশে ইটভাটা চালু থাকলেও শুধু চট্টগ্রামের ইট ভাটাগুলো অভিযান করে বন্ধ করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ব্রিক ফিল্ড রক্ষার দাবি জানান। পরে শ্রমিক ও মালিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

[৭] এদিকে, রাউজানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইট বিক্রি বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি ইট তৈরীর কার্যক্রম। এছাড়াও রাউজানে ৫২টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ৫টি ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিলেও আরো ৪৬টি ইটভাটায় ইট তৈরীর কার্যক্রম চলছে। এসব ইটভাটায় ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে বন কাঠ, পাহাড়ি ও কৃষি জমির মাটি। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান থেকে রক্ষা করতে বাকি ৪৬টি ইটভাটার মালিক শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত