প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, ইয়াঙ্গুনে অব্যাহত গণবিক্ষোভ

লিহান লিমা: [২] মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পূর্বে গণতান্ত্রিক সরকারের নিযুক্ত জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধি কেয়ো মোয়ি তুন ও অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করা তিন মুয়ুং নাইং দু’জনেই দেশের প্রতিনিধিত্বের দাবী নিয়ে জাতিসংঘে আবেদন জমা দিয়েছেন। সিএনএ/আল জাজিরা/নিক্কি এশিয়ান রিভিউ

[৩]গত সপ্তাহে সেনা অভ্যুত্থানকে প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানোর পর তুনকে পদচ্যুত করে নতুন নিয়োগের ঘোষণা দেয় জান্তা সরকার। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি দুজেরিক জানিয়েছেন, এটি খুবই বিরল পরিস্থিতি। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কেয়ো মোয়ি তুনই জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধি। আমরা সেনা প্রতিনিধিত্বের বিরুদ্ধে থাকবো এবং বার্মায় গণতন্ত্র ফেরাতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’

[৪] এর আগে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে আসিয়ান সদস্যভূক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের সেনা শাসকদের প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে অতিসত্ত্বর রাজনৈতিক নেতা ও অন্যান্য বন্দিদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান। আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান ইন্দোনেশিয়া সংস্থাটির পক্ষ দেয়া দেয়া এক বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। তবে বৈঠকের পর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘গত নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটে অনিয়ম নিয়ে আঞ্চলিক আলোচনা’ বলে আখ্যা দেয়। দুই ঘণ্টার আসিয়ান সম্মেলনে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেন গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ওয়ানা মিয়ুং লুইন।

[৫]আসিয়ানের আলোচনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি, রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় আহত বিক্ষোভকারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন মিয়ানমারের চিকিৎসক ও মেডিক্যালের শিক্ষার্থীরা। সেনাঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে গণধর্মঘটে দেশটির প্রায় ৮০ভাগ সরকারী হাসপাতাল বন্ধ করেছে। জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া অব্যাহত রাখতে চিকিৎসকরা বাহিরে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। ডাক্তার কুয়েন্ত কান্ত তিন বলেন, ‘এই লড়াই শেষ হবে না। বিক্ষোভ চলবে এবং আমারা নিজেদের চিকিৎসাজ্ঞান দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সর্বোচ্চ সহায়তা করে যাবো।’

[৫]বুধবার মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মিন মিয়েন্তের বিরুদ্ধে আরো দুটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়। এদিন এপির ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত চলমান বিক্ষোভে ৩০জন নিহত ও ২০০জনের বেশি আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত