প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনিস আলমগীর: একটি সম্ভাব্য প্রেমের অপমৃত্যু কাহিনী

আনিস আলমগীর: ছেলেটি পড়ে সাংবাদিকতায়। তার বন্ধু পড়ে বাংলা সাহিত্যে। বন্ধুর বাংলা ক্লাসে সব সুন্দরীর সমাবেশ দেখে চুরি করে একদিন বসে যায় সেই ক্লাসে। লেকচার কিসে ছিল কানে ঢুকেনি, তাকিয়ে ছিল একজনার পানে। তিনিও সাড়া দিয়েছেন। ছেলেটি তাৎক্ষণিক লিখে ফেলে চিরকুট- 'যদি আপনার মনে মাধুরী মিশায়ে এঁকে থাকো কারও ছবি। সে কথা বলিয়া যেও, ভুলিয়া যাবে যে সবই।’ ক্লাসের মধ্যে হস্তান্তর হলে জবাব আসে- গুরুচণ্ডালী। ফেসবুক থেকে

বিদ্রুপের হাসি, ভবিষ্যত কবির। একজন ভবিষ্যত সাংবাদিকের প্রতি। একটি সম্ভাবনাময় প্রেমের মৃত্যু সেখানেই। সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণজনিত দোষে ভাষাকে দুষ্ট করার এই যে দোষটি ছেলেটিকে দেওয়া হল, ছেলেটির তাতে দোষ কী ছিল! কোটেশনটি তো ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুলের গানের লাইন। গেয়েছেন কাননদেবী। সাধুকে আনুষ্ঠানিক বিদায়তো বহু যুগ আগেই দেওয়া হয়েছে। তাহলে ভাষা দূষণের অপরাধ আসবে কেন! ভাষায় সাধু ও চলিতের মিশ্রণের অভিযোগ আর কত চলবে! (কত প্রেম গুরুচণ্ডালী দোষে মরে যাবে!) যেসব ভাষা পণ্ডিত গুরুচণ্ডালী দোষ ধরেন তারা কি জানেন কবিতা এবং গানে হমেশাই সুর ও ছন্দের স্বার্থে গুরুচণ্ডালী চলে আসছে? তাহলে অন্যখানে দোষ হবে কেন!

শব্দের সাধুরূপ ও চলিতরূপের পার্থক্য ক’জন ধরতে পারেন? জুতা না জুতো, পূজা না পুজো, তুলা না তুলো- লেখার সময় আপনি কি খেয়াল করেন এর প্রথমটা সাধুরূপ, দ্বিতীয়টা চলিত রূপ? হে পণ্ডিতগণ, ইত্তেফাক, আনন্দবাজারের সম্পাদকীয় আর আমার বড় ভাই সলিমুল্লাহ খানের কলাম পড়ার জন্য আমাদেরকে সাধুর যন্ত্রণা আর কত সহ্য করতে হবে? জগতে আর কেউ তো সাধু ব্যবহার করে না।

সাধুতে লেখা পুরনো সহিত্য কি করবেন! রেখে দেন যারা সাহিত্যে বিষারদ হবে সেই বাংলা সুন্দরীর মতো। আর ক্লাসিকগুলো সংক্ষিপ্ত এবং চলিত ভাষায় ছড়িয়ে দিন নতুন প্রজন্মকে। ভাষা তার গতিতে চলুক না। সাধু শব্দের দরকার হলে চলিত ভাষায় যাবে, চলিতের দরকার হলে সাধুতে আসবে। সবচেয়ে বড় কথা- সাধু ভাষা, চলিত ভাষা চিহ্নিত করতে যাব কোন কারণে! ভাষা হোক একটাই- বাংলা ভাষা। আ মরি বাংলা ভাষা।

সর্বাধিক পঠিত