প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ডিজিটাল অ্যাক্ট মামলায় জামিন পেতে বিড়ম্বনা

মিনহাজুল আবেদীন: [২] রোববার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডিজিটাল অ্যাক্ট মামলায় জামিন পেতে বেশির ভাগ আসামির স্বজনদের হয়রানির শিকার হতে হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে পারে না। কোনও আসামির সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেয়া হয় না।

[৩] কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরের বড় ভাই আহসান কবীর জানান, গত বছর তার ভাইকে গ্রেপ্তারের পর ৬ বার লোয়ার কোর্ট, সেসন কোর্ট, হাইকোর্টে তার জামিনের জন্য আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের শরীর খুব খারাপ, তার জামিন প্রয়োজন কারণ তার ওজন আগের থেকে প্রায় ১০ কেজি কমে গেছে। বাম পায়ে ডায়াবেটিসের কারণে পচন ধরেছে। ফলে কিছু দূর হাঁটার পরে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। কানের পর্দা দিয়ে সব সময় রক্ত পুঁজ বের হয়। চোখে ঝাপসা দেখে, কোনও কিছু পড়তে পারেন না।

[৪] ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলামের ছেলে মনোরোম পলক জানান, ১৪ বার বাবার জন্য জামিনের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। তার অসুস্থতার কথা বলা হলেও তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। অথচ পরিবারের লোকজন আর্থিক সংকটে রয়েছে। পত্রিকাগুলোতে নিউজ আসার পর তাকে হাসপাতালের নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরিবারের কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

[৫] আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, তদন্তকর্মকর্তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যথাসময়ে তদন্ত শেষ করতে পারেন না। দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকতে হয়। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৪০ এর ১ উপ-ধারাতে বলা হয়েছে, প্রথমতো ৭ দিন, পরে ১৫ দিন- সেটি না হলে ট্রাইবুন্যাল আরও ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারেন। তবে স্পেশ্যাল কেস হলে ট্রাইবুনাল সেটিও পরিবর্তন করতে পারে।

[৬] ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখাইরুল ইসলাম বলেন, কিছু নির্ধারিত কাঠামোর কারণে ইচ্ছা করলেও নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করা যায় না। তদন্ত করার ক্ষেত্রে ফরেন্সিক ক্লাবে প্রচুর চাপ থাকে কারণ বাংলাদেশের সব কেস এখানে জমা হয়। তাছাড়া স্যোশাল মিডিয়ার কারণেও অনেক কিছু পিছিয়ে পড়ে।

[৭] সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, নিম্ন আদালত সঠিকভাবে তদের দায়িত্ব পালন করছে না, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। ফলে কেসগুলো হাইকোর্টে আপিল হয়, সব কিছু পিছিয়ে পড়ে। তবে যারা জামিন না পেয়ে জেলে থাকেন, তাদের ৭০ ভাগ নিম্নবিত্ত আসামি।

[৮] তিনি বলেন, মুশতাক আহমেদ জামিনে মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে নিম্ন আদালতের দায়িত্বে অবহেলা ছিলো। এতে দন্ডিত আসামির মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। সম্পাদনা: রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত