প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা: বাঙালি জাতির প্রয়োজন : ছাত্রশক্তির বিদ্রোহ ও স্বাধীনতা!

মাসুদ রানা: প্রতিটি জাতিরই আছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক-মনস্তাত্তি¡ক বৈশিষ্ট্য ও নিজস্ব রাজনৈতিক ইতিহাস। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে যে সামাজিক শক্তিটি মস্তিষ্কের মতো ভূমিকা পালন করেছে, তা হচ্ছে এ-জাতির তরুণ ছাত্রশক্তি। ছাত্রশক্তিই এদেশের স্বাধীনতার কথা ভেবেছে, ভাষা আন্দোলন করেছে, জাতির মধ্যে জাতিবোধ সৃষ্টি করেছে, স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছে, স্বাধীনতার ইশতেহার বা ঘোষণা পাঠ করেছে, মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে এবং স্বাধীনতা-উত্তর দেশে সকল প্রকারের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে গণ-আন্দোলন ও গণ-অভ্যূত্থান সৃষ্টি করেছে। বাঙালী জাতির মস্তিষ্ক-স্বরূপ এই ছাত্র-শক্তিকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অঙ্গীভূত করে, অঙ্গ-সংগঠন নাম দিয়ে কিনে নিয়ে অধীনস্থ করে ফেলেছে। তাই, এই ছাত্রশক্তি স্বরূপে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে না। আমি মনে করি বাংলাদেশের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছাত্রশক্তির উচিত তাদের রাজনৈতিক পিতৃ-সংগঠনের অধীনতা থেকে বেরিয়ে আসা। তাদের উচিত বিদ্রোহ করে স্বাধীন হওয়া।

গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির উচিত তরুণসুলভ সরলতা, উচ্ছলতা, সজীবতা, সাহসিকতা, বদান্যতা, অনুসন্ধিৎসা, অমান্যতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চা করা। আর, এটি করার জন্যে ছাত্র-শক্তির প্রয়োজন আর্থিক স্বনির্ভরতা। ছাত্রশক্তির আর্থিক স্বনির্ভরতা আসতে পারে নিজদের ওপর বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে। তাদের উচিত ভোগ-বিলাসী জীবনবোধের পরিবর্তে সামষ্টিক, প্রেমময়, শ্রমময়, জ্ঞানময়, সৃষ্টিময় লড়াকু জীবনবোধ তৈরি করা। ছাত্রশক্তির উচিত নিজেদের সংগঠন তৈরি করা। নগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্রে নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। সাংগঠনিক ব্যয় নির্বাহের জন্যে সদস্যদের বাধ্যতামূলক বার্ষিক চাঁদা ও স্বেচ্ছামূলক অনুদানের ওপর নির্ভর করা। ধারণা করা যায়, শিক্ষা-শেষে পেশাগত জীবনে উত্তীর্ণ প্রাক্তন সদস্যগণ ব্যক্তিগতভাবে অনুদান দিয়ে সহায়তা করবেন। ইতিহাসের নিরিখে মনে হচ্ছে, স্বাধীন ছাত্রশক্তির বিকাশ ও বিদ্রোহ ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সঙ্কট উত্তরণ সম্ভব নয়। তাই, প্রয়োজন ছাত্রশক্তির বিদ্রোহ ও স্বাধীনতা।  লণ্ডন, ইংল্যান্ড

সর্বাধিক পঠিত