প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মাটির হাঁড়ি তৈরি করে সংসার চলে দুই গ্রামের ৬০ পরিবারের

জাহাঙ্গীর চমক: [২] প্রাচীনকাল থেকে দেশের প্রত্তন্ত অঞ্চলসহ শহুরে মানুষের নিত্য দিনের সাংসারিক কাজে ব্যবহার হতো মাটির তৈরি পণ্য। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার। মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহারের চাইতে আধুনিক জিনিসপত্রের ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার ভূলে মানুষ প্লাস্টিক ও মেলামাইনসহ বিভিন্ন ধাতব দ্বারা তৈরি পণ্য ব্যবহারে ঝুঁকে পরেছেন।

[৩] তবে আধুনিক যুগে থেকেও কিছু সংখ্যক মানুষ এখনো মাটির তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার ভুলে যাননি। এখনো গ্রামাঞ্চলের বৃদ্ধ মানুষরা মাটির তৈরি জিনিস ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। মাটির তৈরি জিনিসের তেমন কদর না থাকলেও মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য ও বংশ পরমপরা ধরে রেখেছেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শতাধিক পরিবার।

[৪] উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের চোরমর্দ্দন ও দানিয়াপাড়া গ্রামের ৫০ থেকে ৬০ টি পরিবার উল্লেখযোগ্য। এ দুই গ্রামের মৃৎ শিল্পিদের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় কুমার। কুমাররা পাল বংশের লোক।

[৫] তাদের পূর্ব পুরুষদের পেশা মাটি দিয়ে কলস, টালি, মটকা, হাঁড়ি, পাতিল, বদনাসহ নানা তৈজসপত্র তৈরি করা। কুমার বা পালরা বংশ পরম্পরায় এ কাজ করে আসছেন। এ দুই গ্রামের মৃৎশিল্পিরা তাদের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া মাটির কাজ করে এখনও টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
কুমারদের সঙ্হে কথা বলে জানা যায়, মৃতশিল্পীরা ৩-৪ বছর পূর্বে মাটি দিয়ে ১০-১৫ ধরনের পণ্য তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন। এছাড়া সে সব পণ্য পাইকারী হিসেবেও অনেক পাইকাররা বাড়িতে এসে কিনে নিয়ে বাজারে খুচরা দামে বিক্রি করতেন। তবে বর্তমানে শুধু দইয়ের পাতিল বানাচ্ছেন তারা। করোনার লকডাউন চলাকালীন সময় চাহিদা অনুযায়ী যেসব পাতিল বানানো হয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগই বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

[৬] তারা জানান, করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতি ৫ কেজির দইয়ের পাতিলের দাম ছিলো ১৫ টাকা, ৩ কেজির দাম ছিলো ১২ টাকা ও ২ কেজির দাম ছিলো ১০ টাকা।

বর্তমানে ৫ কেজি দইয়ের পাতিরের দাম ১২ টাকা, ৩ কেজি পাতিলে দাম থেকে ১০ টাকা ও ২ কেজি পাতিলের ৮ টাকায় নেমে এসেছে।

 

সর্বাধিক পঠিত