প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান: চিৎকার করে বলি, লেখালেখি কিংবা প্রতিবাদের কারণে গ্রেপ্তার-নির্যাতন বন্ধ হোক

শরিফুল হাসান: এই যে লেখক মুশতাক আহমেদ মারা গেলেন, এ দায় কার? খুন করেননি, চুরি করেননি, রাষ্ট্রের লুটপাট করেননি, দুর্নীতি করেননি, অপরাধ শুধু লিখেছিলেন। সেই লেখা সরকারের পছন্দ হয়নি। তাই গ্রেপ্তার, ৯ মাস কারাগারে এবং সেখানেই মৃত্যু। আমি বলবো এই দায় সরকারের, এই দায় আমাদের পুলিশের, এই দায় আমাদের বিচার ব্যবস্থার, এই দায় রাষ্ট্রের। আফসোস এই দেশে খুনির জামিন হয়, হাজার কোটি টাকা লুটপাট করলে জামিন হয় কিন্তু কার্টুন আঁকলে বা লিখলে জামিন হয় না। এমনকি প্রচণ্ড অসুস্থ হওয়ার পরেও। ধিক এই রাষ্ট্রকে। এই যে মুশতাক আহমেদ কারাগারে মারা যান, কার্টুনিস্ট কিশোররা মাসের পর মাস জেলে এর দায় আমি আপনি কেউ এড়াতে পারি না। এই মৃত্যুর দায় আমার আপনার সবার। কারণ আমরা সবাই চুপ করে ছিলাম।

আপনারা চাইলে দায় অস্বীকার করতে পারেন, আমি আমার দায় অস্বীকার করতে পারি না। আমি বলবো কোনো সভ্য দেশে লেখালেখির কারণে এভাবে গ্রেপ্তার হতে পারে না। আর যেখানে হয় সেখানে এভাবেই পচে গেলে মরে যাব আমরা সবাই। আফসোস লাগে, আমি বা আমরা কিছু লোক যখন এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সরব ছিলাম তখন একদল মানুষ ব্যস্ত ছিল উন্নয়নের গল্প বলতে আর বেশিরভাগ মানুষ তখন চুপ ছিলো। উন্নয়নের গল্প বলনে ওয়ালারা আজও উন্নয়নের গল্প বলছেন আর চুপ থাকা লোকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এভাবে চললে পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে। মাঝে মাঝে ভীষণ ঘৃণা লাগে নিজের ওপর।

ভীষণ ঘৃণা লাগে এই রাষ্ট্রের ওপর। অপরাধবোধে জ্বলতে থাকি। তাই চিৎকার করে বলি, লেখালেখির কারণে, প্রতিবাদের কারণে এরকম গ্রেপ্তার নির্যাতন বন্ধ হোক। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে তার মতামত প্রকাশ করুক। অন্যথায় আমাদের ধ্বংস কেউ ঠেকাতে পারবে না। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে বোধ দিক। মনুষ্যত্ব দিক। ভালো মন্দ বিচারের ক্ষমতা দিক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত