প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীম আহমেদ জিতু: বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে সুশীল, বুদ্ধিজীবী, লেখক-সাহিত্যিক,শিল্পীরা তো কখনো আওয়ামীবিরোধী ছিলো না, কী কারণে তারা দূরে সরে গেলো?

শামীম আহমেদ জিতু: সরকার যদি আসিফ নজরুল কিংবা ডেভিড বার্গম্যানের রাষ্ট্রবিরোধী বাগাড়ম্বর সহ্য করতে পারে, তাহলে মুশতাক আহমেদের লেখা কিংবা কিশোরের কার্টুন কেন সহ্য করতে পারে না? এটা কি শক্তের ভক্ত নরমের যম টাইপের ব্যাপার? সরকার তো ক্ষমতা হারানোর ভয় পাবার কথা না। যে সরকার বিএনপি-জামায়াতের ৩ মাসের আগুন পোড়ানোর খেলায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সামলে উঠতে পারে, হেফাজতের এক রাতের তাণ্ডবে সচিবালয় দখলের হুমকি কাটিয়ে উঠতে পারে, নিরাপদ সড়ক চাই কিংবা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের মতো আন্দোলনে ঢুকে পড়া স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে, তারা এখনও কেন ফেসবুকের লেখা ভয় পায়? আমার গুরুত্বর সন্দেহ আছে এই বিষয়ে প্রশাসন বা অস্ত্রবাহিনীর অতি উৎসাহ সরকারের চাইতে বেশি কাজ করে। সরকারের উদাসীনতা এই ব্যাপারগুলো বারবার ঘটার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে সুশীল, বুদ্ধিজীবী, লেখক-সাহিত্যিক, শিল্পীরা তো কখনো আওয়ামী বিরোধী ছিল না। কী কারণে তারা দূরে সরে গেলো? কী কারণেই বা সরকার তাদের শত্রু মনে করলো? আমার চারপাশে বিএনপি জামায়াতের মধ্য থেকে সরকারবিরোধী কোনো শক্তিশালী আওয়াজ আমি শুনতে পাই না। যাদের সরকার বিরোধী কণ্ঠ শুনতে পাই, একসময় প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের ভক্ত ছিল। এই কারণেই অনেককে বলতে শুনি-আমি বঙ্গবন্ধুর ভক্ত, কিন্তু আওয়ামী লীগের না। আমার ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ঘনিষ্ঠ অনেকে আছেন। তাদের অনুরোধ করি এই বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কিছু একটা নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, প্লিজ। এতো বড় বড় সাফল্যের পর সরকারকে টলানোর মতো কেউ নেই।

তাছাড়া ফেসবুকে লিখে কখনও সরকার পতন করানো যায় না। সরকারকে বলুন যার যা ইচ্ছা লিখুক, লিখতে দিন। ভালো না লাগলে দেখার দরকার নেই, পড়ার দরকার নেই, শোনার দরকার নেই। পাত্তা দেওয়ারও দরকার নেই। তিনদিন পর এমনিই এসব লেখা ধামাচাপা পড়ে যাবে। যেমন ধামাচাপা পড়ে যাবে লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারের হত্যার ঘটনাও...!

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত