প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অতিমাত্রায় প্রযুক্তি ব্যবহার: হুমকিতে বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিশক্তি

শিমুল মাহমুদ: [২] তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়ান। তার সমস্যা দূরের বস্তু ঝাঁপসা দেখে। এ সমস্যা নিয়ে মাঝে-মধ্যেই তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।

[৩] চিকিৎসকরা বলেছেন, বংশগত কারণেও এই মাইয়োপিয়া বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টি হতে পারে, তবে স্ক্রিন অ্যাক্টিভিটি, রোদে খেলাধুলা না করা শিশুদের মাইয়োপিয়ার অন্যতম কারণ।

[৪] সায়ানের মা ডা. সাজিয়া আফরোজ ছন্দা জানান, মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে চিকিৎসক সায়ানকে চশমা ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয়। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি। সন্তানের টিভি ও মোবাইল স্ক্রিনের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকায় তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

[৫] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় ও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সৈয়দ ওয়াদুদ বলেন, শিশুদের খেলার জায়গা নেই। সারাক্ষণ চার দেয়ালে আবদ্ধ থাকে। ফলে টিভি, ট্যাব, মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপের স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। দূরের জিনিস তো তারা দেখছে না। সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে সময় কাটছে। তাই সমস্যা তো দিন দিন বাড়বেই। এর বাহিরে শিশুদের এ ধরণের সমস্যা বাবা-মা থেকেও আসতে পারে বা জন্মগতভাবেও হতে।

[৬] তিনি বলেন, গ্রামের শিশুদের এ ধরণের সমস্যা নেই বললেই চলে। কারণ তাদের মাঠ আছে, রৌদে তারা মাঠে খেলাধুলা করছে।

[৭] জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন গড়ে আমরা ২৫০ জন রোগী দেখি। এর মধ্যে ক্ষীণ দৃষ্টি বা মাইয়োপিয়ার আক্রান্ত শিশু আসে গড়ে ৫০ জন। যারা বিভিন্ন ধরনের চশমাজনিত ক্রটি নিয়ে আসেন।

[৮] চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, কাছের জিনিস দেখলে, বিশেষ করে খুব ফোকাস করে কোনো কিছু দেখলে আইবল বড় হয়। ছয় থেকে আট বছরের মধ্যে আইবল বেশি বড় হয়ে গেলে দূরের দৃষ্টির ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। করোনাকালে ঠিক সেটাই ঘটছে শিশুদের চোখে। এর থেকে রেটিনার সমস্যাও হতে পারে। সম্পাদনা: শাহানুজ্জামান টিটু

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত