প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভুট্টায় স্বপ্ন দেখছেন কাজিপুরের যমুনা চরের কৃষকরা

শাহরিয়ার জিকো : [২] অধিক লাভ ও ভালো ফলনে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে অধিকাংশ কৃষকের। গত বছরের ন্যায় এখন ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গতবছর ভুট্টা চাষে ভালো লাভ হওয়ায় এবার তার প্রসার বেড়েছে অনেকগুণ।

[৩] ভাঙন জনপদের এই উপজেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার আবাদী জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষক হয়ে পড়েন দিশেহারা। সর্বস্ব খুইয়ে এক সময়ের ধনী মানুষটিও হয়ে পড়েন দিনমজুর। মহাজনের পাওনা পরিশোধে বিক্রি করতে হয় হালের বলদ। এ অবস্থার উত্তরণে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে পাল্টে যাচ্ছে কৃষকের জীবন-জীবিকা ও চাষাবাদের ধরণ।

[৪] নদীকে শাসন করে তার উর্বর পলিমাটিতে চলছে সনাতনি পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ। উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশাল চরাঞ্চলসহ বিড়া অঞ্চলে ভুট্টা ফসলকে লক্ষ্য করে চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন কাজিপুর উপজেলার কৃষি অফিস। কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে ২ বছর আগে কৃষি অফিস একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

[৫] এর ফলে দুবছর হলো আগের চেয়ে প্রায় এগারোশত হেক্টর জমি বেড়ে ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ মন।

[৬] এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় বিভিন্ন প্রকল্প, পুষ্টি প্রকল্প, বীজ ও বালাইনাশক সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানীর সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস।

[৭] বিড়া ও দুর্গম চরাঞ্চলে ভুট্টাচাষী কৃষক দল গঠন ও উৎপাদিত ভূট্টা সঠিক মূল্যে বিক্রয়ের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক কন্ট্রাক্টর তৈরী, নতুন জাতের ভুট্টার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, দলভুক্ত কৃষক ও কন্ট্রাক্টরদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সুষম সারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি বালাই দমনে গুণগতমান সমৃদ্ধ বালাইনাশক এবং হাইব্রিড জাতের বীজের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ফলে কৃষকদের মধ্যে ভূট্টা চাষের আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

[৮] সর্বশেষ এবছরে ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষকগণ কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন ফিড উৎপাদনকারী কোম্পানীর কাছে শুকনো ভূট্টা গড়ে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছে। ফলে অন্যান্য ফসলের চেয়ে এ ফসলে লাভের পরিমাণ বেশি।

[৯] উপজেলার নতুন মাইজবাড়ী চরের ভুট্টাচাষী জহুরুল ইসলাম বলেন ,গতবার কৃষি স্যারদের পরামর্শে ভুট্টার চাষ করে অন্য সব ফসলের চেয়ে বেশি টাকা পাইছি। এবারও ভুট্টার চাষ করছি।

[১০] মনসুরনগরের চাষী মানিক মিয়া বলেন, ফলন ভালো পাই। পাশাপাশি ভুট্টার কোনকিছুই ফেলে দেই না। এর পাতা গরুকে খাওয়াই, ডাটা/কাণ্ড ও মোচা লাকড়ি হিসেবে বাজারে বিক্রি করি।

[১১] কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, এবছর রাজস্ব খাতের মাধ্যমে ৪৫০ টি এবং আরও কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ও হাইব্রিড জাতের ভুট্টার মাঠ প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং কৃষকের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছেন। মানসম্মত বীজ সরবরাহ করতে বিভিন্ন হাইব্রিড বিজ আমদানিকারক কোম্পানির সঙ্গেযোগাযোগ রক্ষা করা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

[১২] তিনি আরও জানান, ভুট্টায় ইদানিং ফল আর্মি ওয়ার্ম (ভধষষ ধৎসু ধিৎস) নামে এক ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা সেটা দমনে কাজ করছি ও কৃষকদের শংকিত হবার কিছু নেই। তাছাড়াও গত বছরে ৩৮০০জন এবং এবছরে ২হাজার কৃষক কে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

[১৩] কৃষি অফিসের তথ্যমতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কৃষক ও কন্ট্রাক্টর কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ৪৫টি প্রদর্শণী প্লট স্থাপন করা হয়। ওই অর্থবছরের রবি মৌসুমে ৫ হাজার ৪৮৫ হেঃ জমি চাষের আওতায় আসে এবং গড় ফলন হয় হেক্টরপ্রতি ৮.৮৫ টন। ভূট্টার মোট ফলন হয় ৪৮ হাজার ৪৮৭ টন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৬ হাজার ৫০০ হে. জমিতে ভুট্টা চাষ কর হয়। বর্তমানে ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ মৌসুমে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৮৬০০ হেক্টর জমিতে। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত