প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে তাল গাছ ও বাবুই পাখি

আশরাফ আহমেদ: ”ঐ দেখা যায় তাল গাছ –ঐ আমাদের গাঁ, ঐখানেতে বাস করে কানি বোগার ছাঁ”। অথবা“তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে– সব গাছ
ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে” এসব শিশুতোষ কবিতার মাঝে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তাল গাছ ‘কবিতার মতো তাল গাছ ও কালের বিবর্তনে ও বন খেকোদের হাতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে । প্রাচীন যুগে গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে তালগাছের ডালে ডালে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা ছিল। এতে অসংখ্য বাবুই পাখি বসবাস করত। দল বেঁধে উড়ন্ত বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত ছিল গ্রাম বাংলার জনপদ কিন্তু বর্তমানে নেই তাল গাছ ,নেই বাবুই পাখি । কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে পরিবেশ বান্ধব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকারী তাল গাছ । একই সাথে জীবজগতে প্রকৌশলী নামে খ্যাত বাবুই পাখিও আজ হারিয়ে যাচ্ছে।

এক সময় ছিল যখন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে তাল গাছের দেখা মিললেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অবাধে তাল গাছ নিধন করায় এ উপজেলায় তাল গাছ শুন্য হয়ে পড়ছে। ফলে নেই বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা ও বাবুই পাখি।

পরিবেশবিদগণের ভাষ্য মতে, অবাধে তাল গাছ নিধনের কারণে ঝড়, বৃষ্টি ও বিজলী (বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের) হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মানুষ, পশু-পাখি সহ জীব বৈচিত্র। গত বছর বিজলী পড়ে হোসেনপুরে বেশ কয়েক জন মারাগেছে।

হোসেনপুর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রচুর তাল গাছ ছিল । প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ও রাস্তার ধারে পুকুর পাড়ে ছোট বড় অনেক তাল গাছ শোভা পেত। ভাদ্র মাসে গাছে গাছে ভরা থাকতো তাল। অধিকাংশ গাছের পাকা তাল ঝড়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ কুড়িয়ে পাওয়া তালের রস দিয়ে তৈরী করে সুস্বাদু পিঠা। তালের পাতা দিয়ে তৈরি হতো নানা কারুকার্যের হাত পাখা। গরম কালে তাল পাতার পাখার কদর ছিল সকলের কাছে কিন্তু তাল গাছে প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যে বিশাল ভূমিকা আছে এবং পরিবেশ বান্ধব তালের উপকার সম্পর্কে না জানায় তাল গাছ ইট ভাটায় লাকড়ি, ঘরের পাইরসহ নানা কাজে ব্যবহারের জন্য নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। এখন নব্বই শতাংশ তাল গাছ আগেই কাটা হয়ে গেছে। উপজেলার আড়াইবাড়িয়া

ইউনিয়নের চর জামাইল গ্রামের সোহাগ বলেন, উপজেলায় বাহির থেকে আসা বেপারীরা প্রতি গাছ তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় কিনে নেয় কিন্তু নতুন করে গাছ লাগানোর কোনো উদ্যোগ নেই। এ কারণে দিন দিন প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল কায়েস জানান, তাল গাছ প্রকৃতির বন্ধু ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী বৃক্ষ। এ গাছ প্রবল ঝড় বৃষ্টি ও আকাশের বিজলী থেকে মানুষ ও প্রাণী জগতকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। ফলে যেসব এলাকায় তাল গাছের সংখ্যা বেশি সেসব এলাকায় ঝড়ে ও বিজলীতে মানুষ ও পশু পাখির মৃত্যুর হার খুব কম।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃতির জীব বৈচিত্র রক্ষায় সরকার বাড়ীর আঙ্গিনার পার্শ্বে, রাস্তার ধারে ব্যাপকভাবে তাল গাছ রোপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে নিজেকে ও এলাকাকে রক্ষার জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে তাল গাছ রোপনের আহ্বান জানান তিনি।

এ উপজেলায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার্থে তাল গাছ রোপনে জোরালো দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত