প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রকৃতি বাঁচাতে ধনীদেশগুলোয় কৃত্রিম মাংস বিক্রি করবেন বিল গেটস

রাশিদ রিয়াজ : বিশে^র তৃতীয় শীর্ষ ধনী বিল গেটস এবার কৃত্রিম মাংসের ব্যবসা ধরছেন। এসব মাংস বিক্রি করবেন ধনীদেশগুলোতে। এতে গ্রিন হাউস গ্যাস থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো সহজ হবে। তিনি তার নতুন বই ‘হাউ টু এ্যাভয়েড এ ক্লাইমেট ডিজাস্টার: দি সলিউশন উই হ্যাভ এ্যান্ড দি ব্রেকথ্রুস উই নিড’এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত লেখেছেন। এতে তিনি বলেছেন মিথেনের স্তর হ্রাস করতে প্রানিজ মাংস না খেয়ে ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম মাংস খেতে। বিল মনে করেন সমস্ত ধনীদেশগুলোর উচিত পুরোপুরি কৃত্রিম মাংস ব্যবহার করা। কৃত্রিম মাংসে স্বাদের পার্থক্য বরং সময়ের ব্যবধানে ভাল বলেই মেনে নেবে মানুষ এমন দাবিও করেছেন বিল। এজন্যে মানুষকে তার পছন্দে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছেন তিনি। এবং প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করতেও বলেছেন বিল। আরটি

ধারণা করা হয় গবাধি পশু ঘাস চিবিয়ে খাওয়ার সময় তা হজম করার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে প্রচুর মিথেন গ্যাস নিঃসরণ হয়। বিল বলছেন গবাধি পশু পালনের সংস্কৃতি পাল্টে দিতে হবে। কৃষি ও বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশংসা করে বলেন গো চারণ বা গবাধিপশু পালন বন্ধের বিকল্প নেই। এমনকি বিল বলেছেন কারো গরু লালন পালনেরই প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিকভাবে বিলের এ আবেদন যদিও জনপ্রিয় হবার নয় তারপরও বিলকে অনেকে এগিয়ে যেতে বলেছেন এধরনের লক্ষ্যমাত্রায়। গত ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে অবশ্য ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম মুরগির মাংসের নাগেট বিক্রি হয় ৫০ ডলারে। আগামী দিনে ‘প্রোটিন বায়ো-রিএ্যাক্টর’ তাহলে গবাধি পশুর স্থান দখল করতে যাচ্ছে। কিন্তু বিল গেটসের এ ধরনের প্রস্তাবনার সমালোচনা করে অনেকে বলছেন বিশে^ অজস্র কৃষক বা খামারিকে গবাধিপশু পালন থেকে বাইরে রাখতে চাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি রাজ্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার একর জমি মালিক বনে গেছেন। বিশে^ খাদ্য উৎপাদনে কৌশলে বিল আসলে একচেটিয়া বাণিজ্য গড়ে তুলতে চাচ্ছেন। ম্যার্কিন কংগ্রেসম্যান থমাস মেসি (কেন্টাকি প্রতিনিধি) বলছেন মার্কিনীরা আসল গরুর মাংস খেতে চাচ্ছেন যখন আমাদের ঋণের পরিমান ২৭.৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আর বিল গেটস শুধু ধনীদেশগুলোতে মাংসের ব্যবসা করতে চাচ্ছেন। মেসির নিজের ১ হাজার একর জমির খামারে মুরগি পালন হচ্ছে সৌর প্যানেল ও টেসলার ব্যাটারি ব্যবহার করে।

সমালোচকরা এও বলছেন বিল গেটস এর আগে ওয়াশিংটনে তার ৬৬ হাজার বর্গফুটের বাড়িতে বাস করতেন, ব্যক্তিগত বিমানে ঘন্টায় ৪৮৬ গ্যালন জালানি পুড়িয়েছেন। বিশে^ উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের কারণে যা সবার আগে যে কোনো মুল্যে বন্ধ হওয়া উচিত। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়াকে বিল গেটস এও বলছেন পারমাণবিক ফিউশনই ২৫ শতাংশ বেশি বিদ্যুত উৎপাদন করত পারে। যা বায়ু ও সৌর শক্তি থেকে আহরণ করা বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ করা ব্যাটারি শক্তির বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু বরফপাত বা বরফ ঝড়ের সময় এধরনের লাখ লাখ ব্যাটারি অচল হয়ে পড়তে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত