প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন:  আমরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত একটি জাতি গঠন করতে পারলে দেশের অনেক বড় বড় সমস্যা বাই ডিফল্ট সমাধান হয়ে যেতো

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: ‘চীন থেকে সরে জাপানি বিনিয়োগের জোয়ার ছুটছে বাংলাদেশ অভিমুখে’, ‘কমপক্ষে ৯টি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে তাদের ক্যাম্পাস খোলার জন্য মুখিয়ে আছে’, ‘আল জাজিরার প্রতিবেদনে পুরো জাতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে : হাইকোর্ট’। উপরের সংবাদ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদগুলো পুরো এক প্রকার আনন্দ ও উৎকণ্ঠা এই দুইয়ের দোলাচলে দুলেছি। প্রথম সংবাদটি নিঃসন্দেহে একটি পিওর আনন্দের সংবাদ।

কিন্তু একই সাথে উৎকণ্ঠা জাগে আমাদের bureaucracy -র লাল ফিতা তাদের আটকে ফেলে কিনা। তবে একদল চৌকষ সরকারি কর্মকর্তা তাদের ডিল করতে দিলে এই সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব। দ্বিতীয় সংবাদটিও আনন্দের। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় মিলে সিঙ্গাপুরে ইয়েল- NUS কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছে। অনেক ব্রিটিশ এবং আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ক্যাম্পাস মিডলইস্টের দেশগুলোতে খুলেছে এবং তারা খুব ভালো করছে। এর মাধ্যমে আমাদের উচ্চ শিক্ষায় সত্যিকারের ডাইভারসিটি এবং প্রতিযোগিতা আসবে।

ডাইভারসিটি মানে হলো বিদেশি ভালো মানের শিক্ষক আসার সম্ভবনা আসবে এবং এর ফলে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা দেশি এবং বিদেশি শিক্ষকের ফ্লেভার নিয়ে বড় হতে পারবে। এইটা খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ সরকারি নীতির মাধ্যমে ban করা আছে। অথচ প্রাইভেট কোম্পানি ও ইন্ডাস্ট্রিতে ঠিকই বিদেশিরা চাকুরি করতে পারে।

অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টো। বিদেশি শিক্ষক থাকলে দেশের ছেলেমেয়েরা উচ্চ মানের শিক্ষা পেলে কোম্পানি ও ইন্ডাস্ট্রিতে বিদেশিদের নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজনই হতো না। একজন ভালোমানের শিক্ষক শতশত ভালো মানের ছাত্র তৈরি করতে পারে, যাদের অনেকেই একসময় নিজেরাই ভালো মানের শিক্ষক হয়ে উঠবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় মানেই হলো উনিভার্সালিটি যেখানে দেশভেদ, জাতিভেদ, ধর্মভেদ ইত্যাদির কোনো বালাই থাকবে না।

তবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার খুবই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন অনেক আগেই ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনকে জানিয়েছেন কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। তবে আমার ধারণা ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশে ক্যাম্পাস খোলা বাংলাদেশের ক্ষমতাবানরা হতে দিবে না কারণ এই ক্ষমতাবানরাই আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক। তারা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত না বরং সহজে মানুষকে ঠকিয়ে কীভাবে মুনাফা লুটে নেওয়া যায় তারা সেই কাজে এক্সপার্ট হেডমাস্টার।

অথচ বিদেশি শিক্ষক নিয়োগের নিষেধাজ্ঞাটা যদি উঠে যায় তাহলে আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের মানের উন্নতি ঘটানোর সুযোগ পেতেন। এতে গোটা উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাটাই পাল্টে যেতো। আর এর ফলে দেশটাই পাল্টে যেতো। বাংলাদেশের আসল সমস্যা হলো মানসম্পন্ন শিক্ষার। আমরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত একটি জাতি গঠন করতে পারলে দেশের অনেক বড় বড় সমস্যা বাই ডিফল্ট সমাধান হয়ে যেত। তৃতীয় সংবাদটি নিয়ে আর কি বলব। আমি আমাদের স্বাধীন বিচার বিভাগ কি সুন্দর স্বাধীনতা ভোগ করছে এইটা দেখে আমি খুবই আনন্দিত, পুলকিত। লেখক : শিক্ষক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত