প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিতরে আশি বছরের জায়গায় বাইশ বছরের তরুণী

ডেস্ক রিপোর্ট :  সায়ান যখন মানসীর বাসায় যেতো। মানসীর মা তাকে বলতো, সায়ানকে নিয়ে তোমার রুমে যাও। ড্রইং রুমে বসে সে বোর হচ্ছেযে!এই ছিলো সায়ান আর মানসীর সম্পর্ক। ওদের প্রতি বাবা-মার এতোই কনফিডেন্স ছিলো, কিছু বলতোনা। যখন খুশী বের হয়ে যেতো। যা ইচ্ছে তাই করতো। কারন এরাযে ফিউচার হাজবেন্ড-ওয়াইফ।

একদিন বলা নাই কওয়া নাই রাত দুইটার সময় দেখি সায়ান আমাদের বাসায় হাজির। দুচোখ ফুলা। লাল হয়ে আছে। সারাটা দিন সে কেঁদেছে চোখ দুটো বলতেছে। সায়ানের শ্বশুর মানে মানসীর বাবা পল্টি নিয়েছে। তার মাইয়াকে আর সায়ানের কাছে দেবেনা। এতোদিন পিরিতি করেছে কিছু বলে নাই। কারন সেটার ছিলো পিরিতির বয়স। এখন বিয়ের বয়স হয়েছে। তাই বিয়ে দিবে। সেটা অন্য ছেলের সাথে। পাত্র আমেরিকান সিটিজেন। জন্ম-ছোট থেকে বড় হওয়া-পড়াশুনা সব কিছু সেখানে। এখন একটা জব করে। পেট্রো ডলার ইনকাম করে। সায়ানতো কেবল কেরানী।

সায়ানের কান্না দেখে আমার নিজেরই কান্না পেলো। মানসীকে ফোন দিয়ে দেখি সেও কাদতেছে। সায়ানের উপর হিংসে হলো। আজকে গায়ে হলুদ গেছে। পরশু বিয়ে। এরাযে পালাবে সেই সুযোগ নাই। মানসীর বাবা উগান্ডার সাবেক রাজধানীর লিডার তাহাজ্জুত বাবার ডান হাত। মানসীর মামার অনেক ক্ষমতা। যে কয়েক দিন আগে কালা চশমাওয়ালাদের নিয়ে শীতলক্ষায় কয়েকটা লাশ ভাসায়ে দিছে। আর লিডার যে কিনা সব সময় বলতো, আমার চেয়ে বড় মাস্তান আর কেউ নাই।, আমিই সবচেয়ে বড় মাস্তান। এরকম লোকেদের সাথে কে টক্কর দিতে চায়? সৌদী থেকে সায়ানের বাবা-মা বললো, বাদ দে। তোরে মরুর দেশে বিয়া দিমু। বন্ধু-বান্ধবরাও সাফাই গেয়ে বললো, কিছু করতে গেলে মানসীর বাবা লিচু কেটে নিয়ে যাবে। তার চেয়ে বাদ দেই। সব জায়গা থেকে নিরাশ হয়ে সে আসলো আমার কাছে।

আমার পড়নে জুব্বা, মাথায় লাল রুমাল, মুখে পানের লালা দেখে মানসীর বাবা বিরক্ত হয়ে গেলো। বিয়ের আসরের মত একটা উৎসব মুলক আসরে চোখ মুখ কুচকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে বাবা? পিছন থেকে মানসীর দুলাভাই কানে কানে বললো, কাজী সাবের মাইয়ার জামাই। হেতিও কাজীগিরি করে। কাজীসাবে হেতিরে পাঠাইছে। আইতাসে। মানসীর বাবার কথা মত দুলাভাই আমাকে নিয়া মানসীর রুমে নিয়ে গেলো। পুরা রুম খালি। কেউ নাই। মানসী আমাকে দেইখা যতটা চমকাইছে তার চেয়ে বেশী চমকাইছে ওর দুলাভাই। হেতি বিশ্বাস করতে পারছেনা কাজী সাবের জামাই ওরে হাত পা বাইন্ধা আমি আলমারীর ভিত্রে ঢুকতে বলতেছে।

শীতলক্ষা নদী দিয়া বুড়িগঙ্গা নদীতে কিভাবেযে আসছি এটা আমি আর মানসী জানি। সবাই জানতো আমরা নারায়নগন্জ সাইনবোর্ড থিকা যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকায় ঢুকবো। সিকিউরিটিগার্ডগুলা ঐভাবে রেডী ছিলো। পুরা রাস্তায় চেকপোস্ট। কড়া নিরাপত্তা। একটু পর পর সায়ানের দুই বন্ধু ফোন দিয়ে জানতে চাইলো, আমরা কই? সুবোধ বালকের মত উত্তর দিলাম, এইতো কাছাকাছি চলে আসছি। এদের বুঝা উচিৎ ছিলো, প্রতিটি পরিকল্পনা ভেস্তে যায় দুই একটা গাদ্দারদের কারনে। আর এটা আমার জানা।

কাকতালীয়ভাবে ঐদিন আহমদ শফীসাব মারায় গেলেন। সারা বাংলাদেশ থেকে লোকেরা দলে দলে গাড়ী ভাড়া করে হাটহাজারীর দিকে যেতে লাগলেন। সায়ান আর মানসীকে সেই রাতে হাটহাজারীর গাড়ীতে তুলে দিলাম। ফরিদাবাদ মাদ্রাসার এক হুজুরকে অনেক কস্টে বিশ্বাস করাইছিযে, সায়ানের মা হচ্ছে আহমদ শফী সাবের সৎ বোন। আশি বছরের মা আর ত্রিশ বছরের ছেলে যাবে। বোরখার উপরে দেখে বুঝা যায়না এর ভিতরে আশি বছরের জায়গায় বাইশ বছরের তরুনী আছে।
হাটহাজারী থেকে টেকনাফ, সেখান থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে একমাস তারপর বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসা নিয়ে মাদ্রাজ। এখন পর্যন্ত সেখানে আছে তারা। ভালই আছে। আজকে শুনি মানসীর বাবা বিয়েতে রাজী হইছে। তবে শর্ত দিয়েছে বিয়েতে সায়ানের বন্ধুরপী কাজীর জামাই সাদা চামড়ার পোলাটা থাকতে পারবেনা। আর বিয়েটা হচ্ছে ২৬শে মার্চে।
সবাই বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।!
মেহেদী হাসান
সত্য ঘটনা অবলম্বনে

সূত্র-

সায়ান যখন মানসীর বাসায় যেতো। মানসীর মা তাকে বলতো, সায়ানকে নিয়ে তোমার রুমে যাও। ড্রইং রুমে বসে সে বোর হচ্ছেযে!এই ছিলো…

Posted by বিবাহিত লালসালু on Wednesday, February 17, 2021

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত