প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘গণরুম’ থাকছে না আর ঢাবির হলগুলোতে

ঢাবি প্রতিনিধি: দেশে করোনার রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তার তিনদিন পর অর্থাৎ ২০ মার্চ বন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো। ওই দিনই হল ছাড়তে হয় সব শিক্ষার্থীকে।

শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় এক বছর পর আগামী ১৩ মার্চ থেকে হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। তবে প্রথম দিকে কেবল পরীক্ষার্থীরাই হলে উঠতে পারবেন। করোনা পরিস্থিতিতে থাকছে না কোনো ‘গণরুম’।

সংশ্লীষ্টরা বলছেন, ঢাবির ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই থাকেন আবাসিক হলে। তাদের জন্য রয়েছে ২০টি হল। তবে আসন কম থাকায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ছোট একটি কক্ষে বাস করতে হয়। এগুলোই ‘গণরুম’ নামে পরিচিত। যে কক্ষে দুজন শিক্ষার্থী থাকার কথা, সেখানে থাকছেন ৮ থেকে ১০ জন।

কোভিড-১৯ ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আবাসিক হলগুলোয় ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অবশ্য ঢাবি প্রশাসন বলছে, করোনা পরিস্থিতিতে গণরুম বা গাদাগাদি করে বাস করার সুযোগ নেই। ফলে আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। সবাই যাতে ঝুঁঁকিমুক্ত থেকেই হলে থাকতে পারেন সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগের মতো আর গণরুম থাকছে না। গাদাগাদি করে কোনো শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারবেন না। সেই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ, তাদেরও আর হলে উঠতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রণয়নের পাশাপাশি হলগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে।

জানা যায়, হল খোলার বিষয়ে গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনায় হয়। এতে বেশকিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, আগের মতো আর কোনো কক্ষের মেঝেতে ঘুমানো যাবে না। দুই সিটের কক্ষে সর্বোচ্চ চার আর চার সিটের কক্ষে সর্বোচ্চ আটজন থাকতে পারবেন। বহিরাগত কাউকে কক্ষে অবস্থান করতে দেওয়া যাবে না। কক্ষের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কক্ষ ও কক্ষের বাইরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। হলের ডাইনিং, ক্যান্টিন, রিডিং রুম, অডিটরিয়াম, মেস, দোকান, সেলুন, টিভি রুম, অতিথি কক্ষ, পাঠাগার, মসজিদ ও উপাসনালয়ে ভিড় করা যাবে না। সভা-সমাবেশ, রেস্তোরাঁ ও গণপরিবহন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। ১৩ মার্চ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সমাপনী পরীক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা আগে হলে অবস্থান করছিল, তারাই হলে উঠতে পারবে। পরীক্ষা শেষ হলে অবশ্য তাদের হল ছাড়তে হবে। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে সব হল।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা বলেন, ‘হলের কক্ষ বাদে অন্য সব স্থানই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আশা করছি, ১৩ মার্চের আগেই ডাইনিং-ক্যান্টিন প্রস্তুত হয়ে যাবে। শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীরাই যেন হলে ঢুকতে পারে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ছোটখাটো সংস্কারসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বাকি যে কাজ চলছে, তা এ মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি। হলের পানির সংযোগ বারবার পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা না হয়।’

স্যার এএফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কেএম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রভোস্ট কমিটির পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী হলে কাজ চলছে এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে। পরীক্ষার্থী ছাড়া কেউ যাতে হলে উঠতে না পারে, সে জন্য পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেখিয়ে ঢুকতে হবে শিক্ষার্থীদের।’

কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীম বানু বলেন, ‘হলের দুটি ক্যান্টিনের মধ্যে অন্তত একটি সীমিত পর্যায়ে খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন পানির ফিল্টারও বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি পোস্টার আকারে হলের সব জায়গায় লাগানো হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সীমিত আকারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাস্টার্স ও অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থী হলে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাস্টার্স ও অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থীদের তালিকা দিতে বলা হয়েছে এরই মধ্যে। হলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে হলে শিক্ষার্থীদের জীবনাচার কেমন হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা প্রস্তুতের কাজ চলছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত