প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি, নাফীসের স্ত্রীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

স্পোর্টস ডেস্ক: [২] বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন শাহরিয়ার নাফীস, তাই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন বাম-হাতি এই ব্যাটসম্যান।

[৩] প্রায় ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের যখন ইতিটানার ঘোষণা দিয়েছেন নাফীস। তার আগে স্ত্রী ঈশিতা নাফীস এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

[৪] ফেসবুকে ঈশিতা লিখেছেন, অনেকবার আমি মানুষকে বলতে শুনেছি, ক্রিকেটারদের স্ত্রীরা গোল্ড ডিগার (সম্পদ ও টাকা পয়সার লোভে যে নারী পুরুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে) হয়। এটা সত্য, বিলাসবহুল গাড়ি, অনেক জুয়েলারি এবং কাপড়-চোপড়, নিয়মিত নামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে বিয়ে হলে এই সবকিছুই এক সঙ্গে পাওয়া যায়, বিশেষ করে তিনি যদি হন জাতীয় দলের ক্রিকেটার।

[৫] কিন্তু সম্ভবত এই সব উপহারের প্যাকেজ ছাড়াও আরও কিছু জিনিসও পাওয়া যায়। ২০০৬ সালের কথা, যখন আমি শাহরিয়ার নাফীসকে বিয়ে করি। সে ছিল ওপেনিং ব্যাটসম্যান এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সহঅধিনায়ক। বাংলাদেশ জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা এবং বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় ছিল সে। আমাদের যাত্রাটা সুইজারল্যান্ডে ধারণ করা জশ রাজের ফিল্মের চেয়ে কম স্বপ্নীল ছিল না।

[৬] বাস্তবতা হলো, এর ভেতরে ভিন্ন কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে। বিয়ের ৬-৭ মাসের মাথায় আমার স্বামী কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে ছিটকে পড়ে। বেতন ছিল না, ছিল না বিপিএল এবং ডিপিএলেও ওই সময় ভালো কিছু ছিল না। আমরা জানতাম না কি করে সব কিছু সামলাব। তার সঙ্গে ছিল আমার পড়াশোনা, তার পড়াশোনা এবং আমাদের জন্ম নেয়া প্রথম সন্তানের খরচ। তবে আমার বাবা-মাকে ধন্যবাদ দিতে হবে, যারা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। কোনো ব্যাপারেই তারা আমাদের ছেড়ে দেননি এবং ভেঙে পড়তে দেননি।

[৭] বিয়ের ১৪ বছর পার হওয়ার পর আমি এখন একজন আইনজীবী, একজন শিক্ষিকা, তার সন্তানদের মা এবং সেই মানুষটি যে কিনা তার উত্থান-পতনে সবসময় পাশে ছিল। আমি প্রতিটি দিন তার পাশে ছিলাম, যেদিন সে সেঞ্চুরি করে বাসায় ফিরতো কিংবা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে।

[৮] মাঝেমধ্যে মানুষ তার অর্জনের পুরো কৃতিত্ব আমাকে দিয়েছে, মাঝেমধ্যে তারা তার ব্যর্থতার জন্যও আমাকে দায়ী করেছে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, কপালে যা আছে তা আমরা পাবই। আমি তাকে মনমরা দেখেছি, কিন্তু ভেঙে পড়তে নয়। ভালো দিন এবং ইতিবাচকতার আশা কখনও হারায়নি।

[৯] আমি সবসময়ই তাকে টিম বাংলাদেশ এবং তার সতীর্থদের জন্য হাততালি দিতে দেখেছি। এমনকি যখন সে দলের অংশ ছিল না তখনও। সে সত্যিকারের সততা, উদার মানসিকতা এবং সত্যবাদিতায় পরিপূর্ণ একজন মানুষ। এটাই শাহরিয়ার নাফীস। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে গর্বিত, তার যাত্রাপথের অংশীদার হতে পেরে গর্ববোধ করি। সে কতটা সফল হয়েছে সেটা ব্যাপার নয়।

[১০] এই যুগটা কাল (শনিবার) শেষ হয়ে যাচ্ছে। জীবনের নতুন শুরু অপেক্ষা করছে তার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি তার পথচলা যেন মসৃণ এবং সহজ করে দেন। সেই সঙ্গে দোয়া করি, তার নাম যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে।

[১১] ২০০৪ সালে পেশাদার ক্রিকেট শুরু করেন নাফীস। ১২৪টি প্রথম শ্রেণী, ১৮০টি লিস্ট এ ও ৬০টি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। রান করেছেন যথাক্রমে ৮ হাজার ১৪১, ৫ হাজার ২৬৯ ও ১ হাজার ২৪৮।

[১২] ২০০৫ সালে জাতীয় দলের অভিষেক হয় তার। ২৪ টেস্টে ২৬.৩৯ গড়ে করেছেন ২ হাজার ২৬৮ রান করেছেন শাহরিয়ার নাফীস। ১টি সেঞ্চুরি ও ৭টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। ক্যারিয়ারের ৭৫ ওয়ানডেতে খেলেছেন। ৩১.৪৪ গড়ে রান তুলেছেন ২ হাজার ২০১ রান। স্ট্রাইক রেট ৬৯.৪৯। ৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান ১২৩। মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি খেলে রান তুলেন ২৫। – ফেসবুক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত