প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভরা মৌসুমেও দাম বেড়েছে পেঁয়াজ আর আলুর

আমিনুল জুয়েল: [২] উত্তরের জেলা বগুড়ার আদমদীঘিতে হঠাৎ করেই দশ দিনের ব্যবধানে আলু, পেঁয়াজ, শিম, লাউ, ডিম, মুরগিসহ প্রায় সব ধরণের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে বিপাকে পরেছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। ক্রেতারা বাজার করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন।

[৩] শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার আদমদীঘি, সান্তাহার, ছাতিয়ানগ্রাম কাঁচা-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে দেশি পেয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৮-১০ টাকা। আলুতে ৬-৮ টাকা। বর্তমানে কাঁচা-বাজারে পাকা টমেটোর দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর দাম বেড়ে শিম ৩০, বেগুন ৪০, গাজর ১৫, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ১৫-২০ টাকা, লাউয়ের দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে।

[৪] পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সান্তাহার বাজারের ব্যবসায়ী ইউসুফ মণ্ডল জানান, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এজন্য আমরা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছি। বাড়তি দামে পণ্যটি কেনার ফলে একটু চড়া দামেই বিক্রি করছি। গেল সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম যে হারে কমেছিল, তাতে আমরা ভেবেছিলাম দাম হয়তো আরও কমবে। উল্টো বেড়েছে। গত সপ্তাহে এক পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ১২৫ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন সেই পেঁয়াজ ১৫০ টাকায় বিক্রি না করলে লস গুণতে হবে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আরও জানান, ‘এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। দাম বাড়ার কথা না। আবার বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহের ঘাটতিও নেই। আড়তে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে। এরপরও কী কারণে দাম বাড়ছে, বুঝতে পারছি না।’

[৫] কাঁচা-বাজারে পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে নতুন আলুর। খুচরা বাজারে এক কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কয়েক দফা কমে যা তিনদিন আগে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আলুর দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ছাতিয়ানগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী পিন্টু জানান, গত হাটের দিন ( সোমবার) খুচরা বাজারে নতুন আলু ১০-১৪ টাকায় বিক্রি করেছি। এর দুই দিন পর আলুর দাম কেজিতে ৫-১০ দশ টাকা বেড়ে গেছে। সেজন্য, এখন নতুন আলু আমরা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।

[৬] তিনি বলেন, নতুন আলু কয়েক সপ্তাহ হল বাজারে এসেছে। এসব আলু এখন সংরক্ষণের জন্য হিমাগারেও রাখা যাবে না। তাই কৃষকরা জমি থেকেই আলু পাইকারদের কাছে বিক্রি দেন। আমাদর ধারণা, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে আলুর দাম বাড়তে পারে।

[৭] বাজারে দাম বেড়েছে সব ধরণের বয়লার মুরগির দাম। আর হালিতে দুই টাকা দাম বেড়ে ডিমের দাম হয়েছে ৩২ টাকা। সাদা ব্রয়লারের দাম বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। আর লাল মুরগিতে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

[৮] আদমদীঘির দৈনিক মুরগী বাজারের তাজরিন পোল্ট্রি হাউসের স্বত্তাধিকারী জুয়েল রানা ও সততা পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, ‘শীতে ব্রয়লার মুরগীর দাম কম থাকে। সেই তুলনায় গরমে দাম বেড়ে যায়।

[৯] কয়েকদিন আগে সাদা ১১০ টাকা থেকে এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। আর লাল মুরগি ১৭০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে মুরগীর দাম বাড়তির দিকে’। সম্পাদনা: আঞ্জুমান আরা

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত