প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিঝুম মজুমদার: আল-জাজিরার ডকুমেন্টারি নিয়ে খুঁড়তে গিয়ে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলাম, এখানে খোদ আওয়ামী লীগের ভেতরের বেশ বড় গোছের ‘আরেক’ নব্য খন্দকার মোশতাক জড়িত ছিলো!

নিঝুম মজুমদার: যতোই খুঁড়ছি ততোই বের হয়ে আসছে এক গভীর অন্ধকার। অনেক কিছুই জানতে পারবেন শিগগিরই। অনেক কিছুই বলতে পারছি না, ‘সময় হয়নি’ বলে। কিন্তু একটা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিই। আমি আল-জাজিরার এই ডকুমেন্টারি নিয়ে খুঁড়তে গিয়ে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলাম এখানে খোদ আওয়ামী লীগের ভেতরের বেশ বড় গোছের ‘আরেক’ নব্য খন্দকার মোশতাক জড়িত ছিলো! নাম প্রকাশ করছি না, কিন্তু ঘটনা বলে যাচ্ছি। আল-জাজিরার বাংলা সংষ্করণ করতে গিয়ে যিনি সমস্ত ব্যক্তিদের একত্রিত করেন, বাংলা কণ্ঠ দেবার জন্য, তার নাম লিসা গাজী। এই তথ্য আপনারা আমার আগের লেখাতেই জেনেছেন কিংবা অনলাইনে ভাইরাল হওয়া হোয়াটসআপ লিকড মেসেজে দেখেছেন। এই কণ্ঠ দেওয়াদের একজন। ধরে নিচ্ছি তার ছদ্মনাম ‘কবির’। তো এ কবির সাহেব সেন্ট্রাল লন্ডনের স্টুডিওতে বিকেল সাড়ে তিনটার সময় কয়েক টেইকে কণ্ঠ দেন আওয়ামী লীগের এক নেতার ইংরেজি সংলাপের।

সে সংলাপের কিছু অংশ ছিলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু কাজের প্রশংসা দিয়ে শুরু এবং বাকি অংশ ছিলো ভয়াবহ। সেই ভদ্রলোক কণ্ঠ দেবার সময় ঠিক করে বুঝে উঠতে পারেননি এই ভয়াবহ অংশ ঠিক কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। সংলাপে যেহেতু ‘তিনি’  সম্বোধনটা ছিলো, ফলে এটি কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে তিনি ধরতে পারেননি। এই কণ্ঠ দেওবার পারিকশ্রমিক হিসেবে আল-জাজিরা বলে দেয়নি কতো টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে, বরং উল্টো জানতে চাওয়া হয়েছে, ‘তিনি কতো টাকা চান’।

এই পুরো ঘটনা থেকে একটি ব্যাপার স্পষ্ট যে, পুরো ডকুটি বানাতে যে ফান্ডিং লেগেছিলো সেটার অভাব আল-জাজিরার ছিলো না। এখন সেই ব্যক্তি যখন প্রকাশিত ডকুটি দেখলেন, তিনি আবিষ্কার করলেন যে তার দেওয়া কণ্ঠটি এ ডকুতে আর নেই। তিনি বিস্মিত এবং অবাক। ঘটনাটি আসলে কী হলো? মাথায় রাখতে হবে, এই কণ্ঠ তিনি দিয়েছিলেন সামটাইমস ইন অক্টোবর ২০২০।

তার মানে দাঁড়াচ্ছে, ডকুটি প্রকাশিত হবার ঠিক আগে, সেই আওয়ামী লীগের নেতা এই ডকু থেকে নিজেকে বাদ দিয়ে দেন কিংবা বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন অর্থ্যাৎ নিজেকে উইথড্র করে নেন এই মিডিয়া ক্যু-এর ষড়যন্ত্র থেকে। কেন উইথড্র করে নেন? আমরা ধারণা করি, তিনি প্রবল ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু এই ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ এবং পরে সরে যাওয়া, সবকিছুই অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয় না। আর কে সেই আওয়ামী নেতা, তা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের গোয়েন্দারা সহসাই বের করে ফেলবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমি সেই কবির সাহেবের কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে এই ডকু দেখার পর তিনি কী বুঝতে পেরেছেন কিংবা তার প্রতিক্রিয়া কী? এক কথাতেই তিনি আমাকে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি নিজেকে প্রতারিত এবং ষড়যন্ত্রে ব্যবহার হওয়া ‘ইনোসেন্ট ভিকটিম’  হিসেবে মনে করছেন। তবে তিনি খুব খুশি যে তার সংলাপটি শেষ পর্যন্ত আর ব্যবহার হয়নি।

তবে এটা জানিয়ে দেওয়া ভালো যে তাসনিম খলিলের কণ্ঠ যিনি দিয়েছিলেন তার নাম জিয়াঊর রহমান সাকলাইন। এখানে আরেকটা প্রশ্ন এসেই যায় যে, এই পুরো ষড়যন্ত্রে মিসেস লিসা গাজী কেন এভাবে উদ্যোগী হলেন? এর আগে তিনি ডেভিড বার্গম্যানের দণ্ডের পর সেটার বিরুদ্ধে প্রথমে প্রতিবাদলিপি এবং পরে ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

তিনি কি তবে সেই ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়েছে বলে, সেই ভেতরের ক্ষোভটিকে এতোদিন নিজের ভেতর জারি রেখেছেন? আর সেই ক্ষোভ থেকেই এতোকিছু? এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিলো স্পষ্ট।

[১] বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের সামনে করাপ্টেড বাহিনী হিসেবে দেখানো। ইউনাইটেড নেশন্স থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ স্থগিতকরণ।

[২] এর সূত্র ধরে সেনাবাহিনীর অনান্য অফিসারদের উত্তেজিত করে তোলা, যাতে করে আর্মিতে একটা ক্যু হয় এবং জেনারেল আজিজকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সে কারণেই জেনারেল আজিজের আমেরিকা সফরটিকে কেন্দ্র করে ছকটি আঁকা হয়েছে। মানে দাঁড়ায়, তিনি যখন দেশের বাইরে থাকবেন।

[৩] ইসরাইল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আড়িপাতার যন্ত্র কিনেছে এবং এই যন্ত্রগুলো হুজুরদের উপর সারভেইলেন্সের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে-এ গুজব প্রচার করে হুজুরদের কোয়ার্টারকে ক্ষেপিয়ে তোলা। কেননা এরই মধ্যে ভাস্কর্য ইস্যুতে হুজুররা তেতে রয়েছে।

[৪] এই ক্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু আওয়ামী নেতাদের সমন্বয়ে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে আরেকটি সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে বসিয়ে দেওয়া এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা  অথবা গ্রেফতার করা।

মোটাদাগে, এই হচ্ছে এই ব্যর্থ মিডিয়া ক্যু’র সারাংশ। কিন্তু প্রশ্ন এসেই যায় যে, কে সেই আওয়ামী নেতা যার কণ্ঠ সেই কবির সাহেব (ছদ্মনাম) যার সেই অংশটি আর প্রচারিত হয়নি? কেন সেই কণ্ঠের অংশটি উঠিয়ে নেওয়া হলো ডকুমেন্টারি থেকে? কে সেই আওয়ামী নেতা? কী তার পরিচয় কিংবা বৃত্তান্ত? পাঠক, ভাবুন। ভাবতে থাকুন। বিমানের নাট-বল্টু খোলা থেকে মিডিয়া ক্যু। সঙ্গে যোগ করেছে সেনাবাহিনী। এসব খন্দকার মোশতাকদের যদি আমরা বের করতে না পারি কিংবা তাদের প্রকাশ্যে না আনতে পারি, তাহলে আরেকটি বেদনা বিধুর অধ্যায়ই আমাদের দেখতে হতে পারে। তোমাকে বধিবে যে, গোকুলে বেড়েছে সে সাধু সাবধান। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত