প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতা সেলিম শেখ গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী: প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া পেশাদার ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা সেলিম শেখ ওরফে শুভকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। বুধবার রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-৪ এর সহকারী পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রতারক চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানের মধ্যশিক্ষিত বেকার ও নিরীহ যুবকদের চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় শতাধিক চাকরি প্রত্যাশিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় প্রতারক চক্রের মূলহোতা সেলিমের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহƒত বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের ৮টি ভুয়া নিয়োগপত্র, ৩টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ৩টি এটিএম কার্ড, ২টি ল্যাপটপ এবং ১ প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ছাড়াও ১০ থেকে ১২ জন পলাতক সদস্য প্রতারণার কাজে জড়িত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, প্রতারক চক্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মী রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেকার ও অস্বচ্ছল যুবকদের চাকরি দেয়ার লোভনীয় অফার দিয়ে বেকার যুবকদের ঢাকায় আনতো। ভিকটিমদের বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়ার বিষয়ে লোভনীয় অফার দিতো। ভিকটিমদের প্রলুব্ধ করে এবং তথ্যা সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের অফিসে নিয়ে যেতো। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা প্রতি গ্রাহক বা টার্গেট সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পেতো।

চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার সেলিম শেখ দামি ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতো। চাকরিপ্রার্থীদের প্রলুব্ধ করে ঢাকায় এনে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।

চাকরিপ্রার্থীদের ভুয়া সরকারী বড় কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে চাকরির বিষয়ে ভাইভা নেওয়া হয় যেখানে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত থাকে এবং তাদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।

ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের জন্য ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে একটি তারিখে তাকে জয়েন করতে বলে। এরপর ভিকটিম যোগদানের জন্য গেলে ভুয়া নিয়োগপত্র দেয়ার বিষয়টি জানতে পারে। ভিকটিম সাধারণত অস্বচ্ছল হওয়ার কারণে যাচাই বাছাই না করে নিয়োগপত্র হাতে পেলে প্রতারক চক্রটিকে টাকা দিতো। ভিকটিম প্রতি ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা নিতো প্রতারক চক্রটি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত