প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মিয়ানমারের সেনাশাসকদের ওপর নিষেধাজ্ঞারোপের ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

লিহান লিমা: [২] মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকা সামরিক নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞারোপ করে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সামরিক নেতা, তাদের পরিবার ও এই নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধরণের ব্যবসায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। গার্ডিয়ান, বিবিসি, আল জাজিরা

[৩]নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মিয়ানমারের সরকারের ১ বিলিয়ন ডলারের সরকারী তহবিল ব্যবহার করতে পারবে না সামরিক নেতারা।

[৪] জো বাইডেন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে অং সান সু চী সহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বার্মার জনগণের আওয়াজ সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। আমরা এটি বন্ধ করবো।’

[৫]বাইডেন জানান, এ সপ্তাহ থেকেই মিয়ানমারের নেতাদের ওপর এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর গণহত্যা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকাভূক্ত হয়েছিলেন মিয়ানমারের কিছু সামরিক নেতা।

[৬]বাইডেন বলেন, ‘আমরা আমদানি-রপ্তানিতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবো। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বার্মিজ সরকারের সব সম্পদ স্থগিত করা হবে, তবে বার্মার স্বাস্থ্য খাত, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অধিকার সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সাহায্য প্রদান অব্যাহত রাখবে।’

[৭]মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরোপিত এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ক্ষমতা গ্রহণের পর কোনো দেশের বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের প্রথম নিষেধাজ্ঞা।

[৮]গত ১ ফ্রেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির নেত্রী অং সান সুচিসহ প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য নেতাদের বন্দি করে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। শত শত তরুণ শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিক ও পেশাজীবীরা রাজপথে নেমে অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দাবী জানাচ্ছেন।

[৯]বিক্ষোভ জোরালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে গ্রেপ্তার ও ধরপাকড় বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের দমনে জলকামান, রাবার বুলেট ও গুলি ব্যবহার করছে পুলিশ। মঙ্গলবারের বিক্ষোভে এক নারী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

[১০]স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি ও নির্বাচন কমিশনের কর্মীসহ যারাই সামরিক সরকারের সমর্থন দিচ্ছেন না তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে অ্যাসিন্টেন্ট ফর পলিটিক্যাল প্রিজোনার (এএপিপি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২২০জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

[১১]জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অতিসত্ত্বর সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

[১২]১৯৬২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দীর্ঘকাল সামরিক শাসন দেখেছে মিয়ানমার। এর আগে ১৯৮৮ ও ২০০৭ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এমন জোরালো প্রতিবাদ হয়েছিলো। ওই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৩ হাজার বিক্ষোভকারী, ২০০৭ সালের বিক্ষোভে প্রাণ হারান ৩০জন। দুইটি বিক্ষোভেই হাজারো মানুষকে আটক করা হয়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত