প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাষ আমিন : আমাদের সবারই উচিত অগ্রাধিকার তালিকা মেনে টিকা নিয়ে নেওয়া, কারণ টিকা ছাড়া করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আর কোনো অস্ত্র আমাদের হাতে নেই

প্রভাষ আমিন : বাংলাদেশ যদি অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতো এবং সকল নিয়ম-কানুন মেনে কিনতো; তাহলে পেতে আরো ৫/৬ মাস সময় লাগতো, দামও অনেকে বেশি হতো। এখানেই সাহস এবং দূরদর্শিতার প্রশ্ন। তবে সেরাম থেকে যে দামে কেনা হবে, বেক্সিমকো তার সাথে এক ডলার বেশি নেবে। এখানেই বেক্সিমকোর ব্যবসা। তারা ৩ কোটি ডোজ টিকায় ৩ কোটি ডলার পাবে। এই অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, যেহেতু এই টিকা জনস্বার্থে কেনা হচ্ছে, তাই বেক্সিমকো প্রতি ডোজে এক ডলার লাভ না করে আরেকটু কম করতে পারতো। তবে সেরাম থেকে কিনেই কিন্তু বেক্সিমকোর দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। সঠিক কোল্ড চেইন বজায় রেখে জেলায় জেলায় টিকা পৌঁছে দেয়াও বেক্সিমকোরই কাজ।

এই প্রক্রিয়ায় যে কোনো ক্ষয়ক্ষতির দায়-দায়িত্ব বেক্সিমকোরই। অনেকে বলছেন, বেক্সিমকো কেন? এটা ঠিক, বেক্সিমিকো সরকারের ঘনিষ্ঠ কোম্পানি। তাই এই টিকা বেক্সিমকো না এনে অন্য কোনো কোম্পানি আনলে ভালো দেখাতো। কিন্তু ব্যবসায়ী সালমান রহমান যে দূরদর্শিতা দেখাতে পেরেছেন, অন্য কেউ সেটা পারেনি। সবচেয়ে বড় সমালোচনার সবচেয়ে ছোট্ট জবাব। বাংলাদেশে এখন যে ৭০ লাখ ডোজ টিকা আছে, এই টিকার নাম ‘কোভিশিল্ড’। এটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। অন্যতম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সেরাম ভারতে অবস্থিত, এছাড়া এই টিকার সাথে ভারতের আর কোনো সম্পর্ক নেই।

ভারতও বাংলাদেশের মতো টাকা দিয়ে সেরাম থেকে টিকা কিনছে। ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচকদের জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে সব ভালো কাজের সময়ই কিছু নেতিবাচক মতপ্রকাশের লোক থাকে, হয়তো তাদের কাছ থেকে মানুষ কোনো সহযোগিতা পায় না। কিন্তু কোনো কাজ করতে গেলে তারা মানুষের মনে বিরূপ মনোভাব তৈরির জন্য সমালোচনা করতে থাকে, মানুষের মনে ভয়ভীতি ঢুকিয়ে দেয়।

কিছুই তাদের ভালো লাগে না। এ ভালো না লাগা রোগের কোনো টিকা পাওয়া যাবে কি না সেটাও আমি জানি না।‘ তিনি আরো বলেছেন, ‘সব কিছুর মধ্যেই তারা দোষ খুঁজবে। নানা প্রশ্ন তাদের। তাদেরকেও ভ্যাকসিন দিয়ে দেবো, যাতে তারা সুস্থ থাকে। তারা সুস্থ না থাকলে আমাদেরকে সমালোচনা করবে কে। তাই তাদেরকে সাধুবাদ দিতে চাই। তারা যতো বেশি সমালোচনা করেছে, আমরা ততো বেশি কাজ করার প্রেরণা পেয়েছি। তাই যাদের কিছুই ভালো লাগে না রোগ আছে, অযথা মানুষকে ভয় দেখায়, তাদেরও টিকা দেবো। এখন টিকা সবার জন্য উন্মুক্ত। চাইলে নিয়ম মেনে নিবন্ধন করে সবাই টিকা দিতে পারবে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং অপপ্রচারের কারণে টিকা নিয়ে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম।

তাছাড়া করোনার সংক্রমণ কমে আসার কারণেও মানুষের আগ্রহ কম। তারচেয়ে বড় কথা, অপপ্রচারের বিপক্ষে টিকা নিয়ে সচেতনতা তেমন হয়নি। বাংলাদেশের হাতে এখন ৭০ লাখ ডোজ টিকা আছে। চাইলে একসাথে ৭০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ আপাতত ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেবে। ৪ সপ্তাহ পর তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩ লাখের কিছু বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। তাই দ্রুত টিকা নিয়ে প্রচারণা বাড়াতে হবে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। কারণ এই ৭০ লাখ টিকারও একটা মেয়াদ আছে। তাই পরবর্তী ডোজ আসার আগেই এই টিকা প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের সবারই উচিত অগ্রাধিকার তালিকা মেনে টিকা নিয়ে নেওয়া। কারণ টিকা ছাড়া করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আর কোনো অস্ত্র আমাদের হাতে নেই। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত