প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাহবুব কবির মিলন : মেজর কোনো অসুবিধা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, আর তা নাহলে নির্ভয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে নিন

মাহবুব কবির মিলন : আমার শ্বশুরকে বাঁচাবার জন্য অনেক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছিলো। অফিস শেষে দীর্ঘ যানজট ঠেলে ক্লান্ত শরীরে রাতে বাসায় ফিরেই রক্ত দিতে হবে শুনে সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালের উদ্দেশে বের হয়ে এসেছিলেন ব্লাড ডোনার। ক্রস ম্যাচ শেষে রক্ত দিয়ে মধ্যে রাতে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। অনেক অনুনয় করেও গাড়ি ভাড়া দিতে পারিনি, খাননি এক কাপ চা। শেষ রাতে ব্লাড দিয়ে গেছেন এমন ডোনারও গাড়ি ভাড়া নেননি বা কিছুই খাননি। এমনকি অনেককেই গাড়িতে লিফট দিতে চাইলেও তা নেননি। শুধু দোয়া ছাড়া তাদের কাউকেই কিছু দিতে পারিনি। হতবাক হয়ে গিয়েছি অজানা এই রক্ত যোদ্ধাদের পবিত্র এবং কল্যাণকর এক মানবিক উপাখ্যান দেখে। আল্লাহ সকল ব্লাড ডোনারদেরর পরিবার-সহ রহম, দয়া এবং মঙ্গল করুন। সঙ্গে দোয়া করছি যারা তাদের খুঁজে পেতে আন্তরিক সাহায্য করেছেন।

শ্বশুর এর বয়স বেশি হওয়ায় (৮০) তাকে বাসায় প্রায় বন্দী করে রাখা হয়েছিল করোনার কারণে। কেউ ঢুকতে এবং বের হতে পারতো না। শ্বাশুরি মারা গিয়েছেন প্রায় চার বছর। অনেক চিকিৎসা, চেষ্টা এবং দোয়ার পরেও কোভিড আক্রান্ত শ^শুর না ফেরার দেশে চলে গেলেন গত ৩১ ডিসেম্বর, সন্ধ্যায়। এতো সতর্কতার পরেও কীভাবে তিনি কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন তা আজ পর্যন্ত বুঝলাম না। আমার স্ত্রী এখন এতিম। আমার পারিবারিক কাহিনি বলার জন্য আজ লিখছি না। লিখছি বড় এক দায়িত্ববোধ থেকে। ক্ষমা করে দেবেন সবাই।

আমরা নিশ্চিত জানি, কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়ার কারণে মৃত্যুর সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে কিন্তু ভ্যাকসিন না দিলে সে সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। তাহলে কোনটি বেটার অপশন? জগতের প্রায় সব মহামারী নির্মূল হয়ে গেছে ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে। কাজেই বর্তমান অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এই ভ্যাকসিনের পথে এগোনো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আজ যখন ভ্যাকসিন নিতে যাবো, গিন্নি কিছুতেই পিছু ছাড়বে না। কী জানি আমার যদি কিছু হয়, হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ি। বাবা-চাচারাও ভয়ে অস্থির।

বারবার বলছে, বাবা ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় বেশি করে আয়তুল কুরসি পড়তে থাকবে। আল্লাহর রহমতে কিছুই হয়নি। এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ’ আছি। লাভের লাভ হয়েছে, আমাকে দেওয়ার ফাঁকে তিনিও ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন। ওখানে অনেক বয়স্ক লোক দেখলাম ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এক চাচা খুব আফসোস করে বললেন, অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে আমার ড্রইভারকে নিয়ে এই রুমে এলাম ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য। পেছন ফিরে দেখি সে নেই, হাওয়া হয়ে গিয়েছে। এই অমূলক ভয় অনেককেই জীবন সংহারের দিকে নিয়ে যাবে, বললেন তিনি। খুব আফসোস লাগছিলো, এই ভ্যাকসিন আর কয়েকমাস আগে পাওয়া গেলে, আমার শ্বশুরকে তা দিতে পারতাম। হয়তো হারাতে হতো না তাকে।

যদিও সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহপাক। আমাদের চেষ্টা মাত্র। ভ্যাকসিন দিয়ে দুজনে বাসায় ফিরে এলাম। বাবা-চাচাদের ভয় তখনো কাটেনি। আমাদের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা দেখে বেশ কিছুক্ষণ পর বাবা-চাচারা এসে বললো, বাবা আমাদের কবে দেবে? করোনায় আমরা হারিয়েছি অনেক স্বজনকে, অনেক মূল্যবান প্রাণ। আর হারাতে চাই না। প্লিজ সময় থাকতেই আপনারা সচেতন হোন সবাই। মেজর কোনো অসুবিধা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, আর তা নাহলে নির্ভয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে নিন। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত