প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপহারের ১২ ঘরের ৮টিতে ফাটল

ডেস্ক রিপোর্ট: নেত্রকোনার পূর্বধলার বিশকাকুনি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ১২টি ঘরের মধ্যে আটটিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। newsbangla24

ধলা গ্রামের ওই আটটি ঘরের ফাটল ধরা মেঝে ও দেয়াল মেরামতের কাজ চলছে এখন। নতুন ঘরে ফাটল ধরার কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় লোকজন জানান, উদ্বোধনের ১০ দিনের মাথায় ২ ফেব্রুয়ারি ওই ঘরগুলোর দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়। উদ্বেগে পড়েন সুফলভোগীরা। এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনাও হয়।

জামাল মিয়া নামে এক রাজমিস্ত্রি সরকারি ওই ঘরগুলো নির্মাণের কাজ করেন। তিনিই এখন ফাটল মেরামত করছেন। ওই রাজমিস্ত্রি জানান, ২০ জন শ্রমিক দেড় মাসে ঘরগুলো নির্মাণ করেন। সময় কম পাওয়ায় দ্রুত কাজ করতে হয়েছে। মাটি নরম থাকায় দেয়ালে ফাটল ও মেঝে দেবে গেছে। দিন দিন ফাটল বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার।

ধলা গ্রামের রবিকুল ইসলাম ও বিউটি আক্তার দম্পতির নামে বরাদ্দ হয়েছে ৭ নম্বর ঘরটি। বিউটি বলেন, ‘আমরার নামে পাওয়া এই ঘরডাত একটু বিত্রে (ভেতরে) আইয়া দেহুইন, সব ফাইট্টে গেছে। অহনও ঘরে পারহই (থাকা শুরু) নাই। ডর লাগতাছে যদি বাইঙ্গে মাতার উপরে পড়ে! তিনডা ছুডু ছুডু আবুইদ্দে (ছেলেমেয়ে) লইয়া থাহন লাগব।’ স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সিমেন্ট কম দিয়ে মিস্ত্রিরা কোনো রকমে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। বর্ষা শুরু হলে বেশির ভাগ ঘরই টিকবে না।

ঘর পাওয়া সাবজান বেগম বলেন, ‘আমি ভিক্ষা মাইগ্গা (ভিক্ষা করে) চলি। পধানমন্তি (প্রধানমন্ত্রী) আমারে একটা ঘর উপহার দিছে। এই ঘরের ওয়ালডা ফাইট্টা গেছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তো ঠিকই দিছেন, মেস্তরিরা কাম বালা করছে না। এই ঘর যদি ভাইঙ্গে আমার জীবন শেষ অয়, তাইলে এই ঘরের আমার কোনো দরকার নাই।’

বিশকাকুনি ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ‘ঘরগুলা ঠিকই বানানি অইছিল। আশেপাশে ইরি খেতে পানি দেওনে ঘরে ফাটল ধরছে, একটু দাইব্বে গেছে। কিছুদিন পরে ঠিক অইয়া যাইব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম বলেন, ‘ঘরের দেয়াল ফেটে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) নির্দেশ দেয়া হয়েছে রাজমিস্ত্রি দিয়ে টেকসইভাবে ঘর ঠিক করে দেয়ার জন্য।’ ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুরের মতো পিআইও সাইফুল ইসলামও জানালেন, ঘরের পাশে জমি থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘ঘর নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি। ইট, বালু, কাঠসহ সব ভালো মানের নির্মাণসামগ্রীই ব্যবহার করা হয়েছে। ঘরগুলোর পাশে বোরো আবাদের জমিতে পানি দেয়ায় ঘরের ভিতরের মাটিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো আমরা মেরামত করে ব্যবহারের উপযোগী করছি। আশা করি আর সমস্যা হবে না।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে মাটির সমস্যা নজরে পড়েছে। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, কী কারণে এমন হয়েছে সেটি বের করতে রোববার অতিরিক্ত জেলা হাকিমকে (এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ‘তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে নেত্রকোনার ১০ উপজেলায় ১ হাজার ৩০টি পরিবারকে জমিসহ ঘর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বধলায় ঘর দেয়া হয়েছে ৫৩টি।

৩ ফেব্রুয়ারি বরগুনার তালতলী উপজেলার বেহেলা গ্রামের প্রকল্পের একটি ঘরের দেয়াল দ্বিতীয়বারের মতো ভেঙে যায়। একটুর জন্য বেঁচে যান ঘরের মালিক ৭১ বছর বয়সী উর্মিলা রাণী। এ ঘটনায় নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় নিউজবাংলার অনুসন্ধানেও। তবে এই অনিয়মের দায়ভার নিতে রাজি হননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ইউএনও বা পিআইওর কেউই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত