প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কিশোরগঞ্জে স্ত্রী-সন্তান হত্যায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড

তন্ময় আলমগীর: [২] কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে জীবন্ত নবজাতককে পানিতে ছুঁড়ে হত্যার পর মা-কেও চুবিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঘাতক নজরুল ইসলাম (২৯) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।

[৩] সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আসামির উপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত নজরুল ইসলাম জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পাবদা গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে।

[৪] অন্যদিকে নিহতরা হচ্ছে, রহিমা খাতুন (২৭) ও তার ৫৫ দিনের শিশুপুত্র আমিরুল। রহিমা খাতুন একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর।

[৫] মামলা বিবরণে জানা যায়, রহিমা খাতুনের প্রতিবন্ধিতার সুযোগে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল নজরুল। সালিশ দরবারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিতও হয়।

[৬] সালিশ দরবারে টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তিতে ২০১৬ সালের ১৯ই নভেম্বর কিশোরগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পুত্রসন্তান জন্ম দেয় রহিমা। সন্তান জন্মদানের পর নজরুলের ওপর রহিমাকে বিয়ের চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে শিশুটিকে পথের কাঁটা ভেবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে নজরুল।

[৭] পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ই জানুয়ারি রহিমা খাতুন ও তার শিশুপুত্র আমিরুলকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নজরুল বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাত ৮টার দিকে আঙ্গিয়াদি মীরের টেক আতার বাড়ি কালভার্ট এর ওপর নিয়ে যায়। সেখানে জীবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে বিলের পানিতে ছুঁড়ে মারে নজরুল। এরপর বিলের পানিতে রহিমাকে চুবিয়ে মারে নজরুল। হত্যাকাণ্ডের ৮দিন পর ২১শে জানুয়ারি মিরারটেক বিলভরা গুদি বিল থেকে গলিত অবস্থায় রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

[৮] রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট যজ্ঞেশ্বর রায় চৌধুরী এবং আসামিপক্ষে এডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন। সম্পাদনা: সাদেক আলী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত