প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষক থাকতো, তাহলে আমাদের আর বিদেশিদের হায়ার করার প্রয়োজনই পড়তো না

কামরুল হাসান মামুন : গত ৩১ জানুয়ারির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিষদের এক মিটিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনোবিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ আন্তর্জাতিক সুনাম ও মর্যাদা লাভ করে না যতোক্ষণ না সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়েরবা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা গবেষক  সম্পৃক্ত থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে আমাদের এমন উদ্যেগ নেওয়া উচিত যাতে বিদেশি শিক্ষক বা গবেষকরা ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত হয়ে যৌথভাবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। এজন্য কিছু নিয়মনীতির পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে সেটা করার তাগিদ দিয়েছেন। বিদেশি শিক্ষক বা গবেষকদের একটি সেমিস্টার বা কয়েক মাসের জন্য এনে শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিশশ্ববিদ্যালয় তাদের বেতন বা সম্মানির ব্যবস্থা করবে এমনকি আবাসনের ব্যবস্থাও করবে।

এটি নিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে আমি একটি স্ট্যাটাস লিখেছিলাম সেটিই এখানে কাট-পেস্ট করছি। আমি সত্যি বুঝতে অপারগ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক হিসেবে বিদেশিদের নিয়োগ দিতে প্রশাসনিক বাধা আছে, কিন্তু কর্পোরেট সেক্টরসহ বেসরকারি সংস্থায় বিদেশি নিয়োগে প্রশাসনিক কোনো বাধা নেই। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষক থাকতো তাহলে আমাদের আর বিদেশিদের হাইয়ার করার প্রয়োজনই পড়তো না। কারণ বাংলাদেশিদেরই ওরকম মেধাবী করে তৈরি করে দেশের চাহিদা মেটাতে পারতাম। একজন বিদেশি কর্মকর্তা নিয়োগের চেয়ে লক্ষ্যগুণ বেটার একজন ভালো বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করা কারণ একজন ভালো বিদেশি শিক্ষক হাজারজন দেশি ভালো বিদেশি মানের কর্মকর্তা তৈরি করতে পারবে। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রীরাও গ্লোবাল সংস্কৃতির ফ্লেভার পেতো।

দেরিতে হলেও আমাদের উপাচার্য মহোদয় বিদেশি শিক্ষক ও গবেষকদের আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্তের বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন। ২০১৯ সালে ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের ভেল্লোরে গিয়েছিলাম ওখানকার একটি প্রাইভেট ইনস্টিটিউট Vellor Institute Technology VIT- ইনভিটেড স্পিকার হিসেবে। সেখানে গিয়ে থেকেছি সেই ইনস্টিটিউটেরই গেস্ট হাউজে। তাদের গেস্ট হাউজটি প্রায় তিন তারকা হোটেলের চেয়ে বেশি ভালো।

ওখানে গিয়ে দেখি গেস্ট হাউজটি দারুণ ব্যস্ত। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের নানা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক গবেষকসহ প্রচুর বিদেশিকে দেখলাম নিয়মিত আসা যাওয়া করছে। ওই গেস্ট হাউসেই অত্যন্ত উন্নত মানের রেস্টুরেন্ট আছে সেখানে গেস্টদের খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। আর আমাদের শতবর্ষের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো আন্তর্জাতিক মানের একটি গেস্ট হাউস হয়নি যেখানে আমাদের অতিথি এসে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি ন্যূনতম ব্যবস্থা। ২০০১ সালে আমি কোরিয়ার সিউলে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে যেই গেস্ট হাউজে ছিলাম সেটি তো আরও অনেক উন্নতমানের। প্রায় ৪ তারকা হোটেলের মতো। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি উন্নতমানের গেস্ট হাউজ থাকবে না, সেটা হয় না। আমাদের কিছু ব্যবস্থা আছে সেটা যেমন সংখ্যার দিক থেকে যথেষ্ট না, তেমনি মানের দিক থেকে খুবই খারাপ। আশা করি কর্তৃপক্ষ এইদিকে নজর দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত