প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে এ বছর থেকেই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

  • যাচ্ছে না বুয়েট, ঢাবি, জাবি, রাবি এবং চবি
  • অর্থের সাশ্রয় আর ভোগান্তি কমবে

ডেস্ক রিপোর্ট: এ বছর থেকেই ৫টি ছাড়া দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বহু প্রতীক্ষিত অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা কার্যকর হতে যাচ্ছে। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা একটি মাত্র পরীক্ষায় অংশ নিলেই চলবে। তবে এবারও গুচ্ছ পদ্ধতিতে যাচ্ছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। স্বায়ত্তশাসনের দোহাই দিয়ে এবার গুচ্ছের বাইরে থাকলেও আগামীতে তাদের এ কাতারে সামিল হতে হবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান।

এতদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছিল। এতে একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। এ ছাড়া অর্থের শ্রাদ্ধ তো আছেই। মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের দুঃশ্চিন্তার অন্ত ছিল না।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মেডিকেল কলেজে ভর্তির ন্যায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একটি মাত্র পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশনা দেওয়া হলেও, বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এতে কর্ণপাতও করেনি। তবে, হাল ছাড়েনি সরকারের নীতি-নির্ধারক মহল।

কিভাবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষ নেওয়া যায়, তা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী-শিক্ষাবিদসহ সর্বমহল দফায় দফায় বৈঠক করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও এ মিছিলে যুক্ত হন। রাষ্ট্রপতি নিজে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন কনভোকেশনে কথা বলেছেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের বঙ্গভবনে নিমন্ত্রণ করে অভিন্ন ভর্তির ব্যাপারে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর অবশেষে এ বছর থেকেই অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু লাখো শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, দেশের অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যে ৩৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখ ২০ হাজারের মতো আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন হচ্ছে মাত্র ৬০ হাজার ৯৫টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ লাখ ৩ হাজার ৬৭৫টি। ফলে পাবলিক এবং মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো সাবজেক্টে আসন পেতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিজ আসন নিশ্চিত করতে এবার কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে।

এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য তিন গুচ্ছে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এক সঙ্গে পরীক্ষা নেবে। ছয়টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তিনটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার আয়োজন করবে। অর্থাৎ তিন গুচ্ছে হবে অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা।

তবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে যাচ্ছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। স্বায়ত্তশাসনের দোহাই দিয়ে এবার গুচ্ছের বাইরে থাকলেও আগামীতে তাদের এ কাতারে সামিল হতে হবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান। তিনি যাযাদিকে বলেন, আগে বা পড়ে সবাইকেই এ পথে আসতে হবে।

এছাড়া ডিপেস্নামা কোর্স থাকায় গুচ্ছ পদ্ধতিতে যাওয়ার সুযোগ নেই ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট)। আর বিশেষায়িত তিনটি/// বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি বুয়েটের সঙ্গে গুচ্ছ পদ্ধতিতে যেতে চাইলেও বুয়েট সম্মতি দেয়নি। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নেবে।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর যাযাদিকে বলেন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ২০টি এবং ৭টি কৃষিসহ মোট ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবার গুচ্ছভর্তি পদ্ধতিতে অংশ নিচ্ছে। বাকিগুলো নিজ নিজ প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় মেডিকেলে ভর্তির সিডিউল ঘোষণা করেছে। সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের একটি মাত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এখানে যারা মনোনীত হবেন, তারা মেধা তালিকার ভিত্তিতে প্রথমে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। এরপর বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হতে পারবেন মেধার ভিত্তিতে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ভর্তি পরীক্ষার পর তাদের চাহিদা ও কোন মানের শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে, তা নির্ধারণ করে চাহিদা দেবে। সে অনুসারে যোগ্যরা ভর্তির সুযোগ পারেন।

উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির ব্যাপারে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে প্রথম পছন্দ হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সেটি দেশের যে প্রান্তেই হোক না কেন। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বভাবত শিক্ষার মান নিয়ে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ-আপত্তি নেই। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আর্থিক সাশ্রয়ের বিষয়টি। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা এতেই খুশি। কারণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করা সম্ভব। -যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত