প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনির্বাণ আরিফ : মিয়ানমারের রাজনৈতিক খেলাটা মূলত ঘটছে চীন বনাম ভারতের ক্ষমতা টানাটানি রশির আগাগোড়াকে কেন্দ্র করে

অনির্বাণ আরিফ : রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার সূত্রপাত হয় ২০১৫ সালের শুরুর দিকে। তখন অং সান সুচি সে দেশের বিরোধী দল লীগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী। বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে সূচি সে গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং তিনি ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতায় গেলে তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী পরিচালিত এই বর্বর গণহত্যা বন্ধ করবেন কিন্তু সুচির দল ওই বছরের শেষের দিকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও সে গণহত্যা থামাতে পারেননি বরং বেড়ে গিয়েছে। কারণ মিয়ানমারের অধিকাংশ জাতীয়বাদী বৌদ্ধরা এই গণহত্যার সমর্থক ছিলো সেজন্য সুচি একা কিছুই করতে পারেননি। এই ছিলো রোহিঙ্গা বিষয়ক সুচির সার্বিক ভ‚মিকা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেনা অভ্যুত্থানে সুচির ক্ষমতাচ্যূতিতে এদেশীয় নায়ালেকরা কেনো এতো আনন্দিত, উল্লসিত?

এই প্রশ্নের উত্তর তাদের কারও কাছে নেই, তারা নিজেরাও জানে না কেন তারা আনন্দিত, উল্লসিত।  এবং তারা এটাও বোঝে না যে মিয়ানমারের সংবিধান সেনাবাহিনীকে একচ্ছত্র আধিপত্য দিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয় সেদেশের জাতীয় পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত আছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নিপীড়ন শুরু করেছে সেনাবাহিনী, সেদেশের নব্বই শতাংশ সাধারণ মানুষ রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়নের সমর্থক।

শুধু তাই নয় সেদেশের বৌদ্ধমোল্লারাও (ভিক্ষু) মনে করে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী না। রোহিঙ্গা ইস্যুর জন্য সুচির পতন হয়নি কিংবা যারা মনে করছেন সুচির পতনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে তারা এখনো শিশু। আপনারা হয়তো জানেন না যে মিয়ানমারের নতুন সেনাপ্রধান মূলত একজন উগ্র জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ। তার সমর্থকেরা তীব্র মুসলিম তথা রোহিঙ্গা বিদ্বেষী।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক খেলাটা মূলত ঘটছে চীন বনাম ভারতের ক্ষমতা টানাটানি রশির আগাগোড়াকে কেন্দ্র করে। সুচি অপেক্ষাকৃত ভারতপন্থী, সেনাবাহিনী পুরোমাত্রায় চীনপন্থী। গত কয়েকবছর ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের নতুন সম্পর্ক ভিন্ন উচ্চতায় রয়েছে এছাড়াও সুচি বৌদ্ধ মোল্লা (ভিক্ষু), জাতীয়তাবাদী জান্তা সেনাবাহিনীদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ পছন্দ করেন না সেজন্য ই  সু চির পতন ত্বরান্বিত হয়েছে। দুনিয়ার রাজনীতি বোঝা এক জিনিস, মানুষের মুখ চাঁন্দে দেখা আরেক জিনিস। বাংলাদেশের বেশিরভাগ নালায়েকরা এখনো মানুষের মুখ চাঁন্দে দেখেই দুনিয়ার রাজনৈতিক ভ‚গোল, পথ- গতিপথ বলে ফেলে। আদতে তারা দুনিয়া সম্পর্ক এক আনাও জ্ঞান রাখে না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত