প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিজিটাল সেবায় আগ্রহ নেই বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানির

  • আধা ডিজিটালাইজেশন করে দায়িত্ব পার

ডেস্ক রিপোর্ট: ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ নেই বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানির। অভিযোগ উঠেছে গত তিন বছর ধরে গ্রাহককে সব ধরনের সেবা ডিজিটাল করার তাগিদ দিলেও বেশিরভাগ বিতরণ কোম্পানি কথাই শুনছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেবার অর্ধেক ডিজিটালাইজেশন করে বাকি অর্ধেক ম্যানুয়ালি করা হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি গ্রাহকের ভোগান্তি বাড়ছে। জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ধরা যাক কোন একজন বিদ্যুত সংযোগের আবেদন করবেন। এখন বিতরণ কোম্পানিগুলো আবেদনটি অনলাইনে করার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আবেদন করার পর বাকি সব কাজ গ্রাহককে টেবিলে টেবিলে ঘুরেই করতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে গ্রাহক আবেদন করবেন অনলাইনে এরপর অনলাইনেই তাকে জানিয়ে দেয়া হবে কখন তার সংযোগটি দেয়া হবে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো আধা ডিজিটাল সেবা কেন দিচ্ছে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা গেছে এখনও সংযোগের ক্ষেত্রে দালালমুক্ত হতে হওয়া সম্ভব হয়নি। কোন বিদ্যুত অফিসের সামনে গেলেই এদের চোখে পড়ে। ভূমি অফিস এবং পাসপোর্ট অফিসের মতোই এরা গ্রাহককে ঘিরে ধরে দ্রুত কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে থাকে। এই দালাল শ্রেণীর সঙ্গে বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানির কর্মীরা সরাসরি জড়িত। তারা এদের সহায়তায় সংযোগ পাইয়ে দেয়। এখানে উভয়ের পৃথকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেবার পুরোটা ডিজিটাল হলে কেউ এখানে সুযোগ নিতে পারবে না। এজন্যই সেবার ডিজিটালাইজেশনে আপত্তি রয়েছে।

শুধু সংযোগ নয় গ্রাহকের বিল দেয়া থেকে শুরু করে বিল আদায় সব কিছুই ডিজিটাল করা সম্ভব। কিন্তু এরপরও এখনও প্রতিমাসে বিল করা এবং বিল পৌঁছে দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ কাজ করেন। বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, গ্রাহক চাইলে অনলাইন থেকে গ্রাহকের আইডি দিয়ে বিল সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু এই অংশটি কার্যকর হওয়ার পরও তাহলে গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি কেন বিল নিয়ে যেতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যেক গ্রাহকের একটি আইডি নাম্বার রয়েছে সেই আইডি নাম্বারে কত বিল তা এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া যেতে পারে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রাহককে বিলটি মেল করেও দেয়া যেতে পারে। এখন দেশের শহরাঞ্চলের প্রায় সব মানুষের হাতেই স্মার্ট ফোন রয়েছে, তারা চাইলেই সেখান থেকে বিলটি প্রিন্ট করে ব্যাংকে জমা দিতে পারেন অথবা মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমেও তা দিতে পারেন।

যদিও মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে। বিল দেয়ার পর সেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে নেয় ব্যাংকগুলো। আবার সেই টাকার একটি অংশ ঘুরিয়ে ক্যাশ ব্যাক হিসেবে গ্রাহককে দেয়া হয়। অর্থাৎ কোন দিন ক্যাশব্যাক বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহককে বাড়তি টাকা গুনতে হবে। এতে ডিজিটাল এই সেবা নিতে আগ্রহী হবে না দেশের বেশিরভাগ গ্রাহক। গ্রাহকরা বলছেন, তারা ব্যাংকে বিল জমা দিতে গেলে তাদের কোন বাড়তি অর্থ দিতে হয় না। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং-এ তা দিতে হবে কেন? এক্ষেত্রে ব্যাংকে বিল দিলে যেভাবে বাড়তি অর্থ রাখা হয় না ঠিক একইভাবে মোবাইল ব্যাংকিং এ সেবা দিতে হবে।

গত সপ্তাহে বিদ্যুত বিভাগে সেবা ডিজিটালাইজেশন নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে গ্রাহক সেবা ডিজিটালাইজেশনে আগ্রহ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আমি গত তিন বছর ধরে বলছি বিদ্যুত সংযোগের সব কিছু ডিজিটালি করতে হবে। কিন্তু কোন বিতরণ কোম্পানিই এটি করছে না। কেবল বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানিগুলো অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা করেই বলছেন সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট অব থিঙ্কস (আইওটি)-এর আওতায় বিভিন্ন সেবার সঙ্গে ইন্টারনেটের সংযোগ বৃদ্ধি করে গ্রাহকবান্ধব সিস্টেম সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সেবা ডিজিটাল করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সব মন্ত্রণালয়। ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়গুলোও ডিজিটাল করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যুত সেবার ডিজিটালাইজেশনে আগ্রহ না থাকাকে দুঃখজনক হিসেবে দেখছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সেবার জিডিটালাইজেশনে কেবল যে গ্রাহক স্বস্তি পাবেন তা নয়, এতে বিতরণ কোম্পানিরও বিপুল পরিমাণ মুনাফা হবে। প্রত্যেক গ্রাহককে যদি সরাসরি সেবা দিতে হয় তাহলে বিপুল পরিমাণ আর্থ এবং সময়ের অপচয় হয়। কিন্তু সেবার ডিজিটালি সেবা দিতে হলে সেটি হয় না।

সম্প্রতি নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, তারা বিদ্যুত বিলের সেবা অলাইনে করায় প্রতি বছর এ খাতের ৫৪ কোটি টাকার ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ নেসকোর মুনাফায় ৫৪ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে। -জনকণ্ঠ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত