প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থপাচারে যাবজ্জীবন সাজার বিধান থাকা উচিত: হাইকোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট : অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিৎ কমপক্ষে যাবজ্জীবন। বিদ্যমান আইনে সাজার পরিমাণ নগণ্য। এ মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ডিভিশন বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুর্নীতির মামলায় ৯ আসামির জামিন শুনানিকালে আদালত এ মন্তব্য করেন। দুদকের পক্ষে করা আবেদনে সংশ্লিষ্ট আসামিদের জামিন না দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আসামিপক্ষীয় আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম জামিনের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় আদালত বলেন, আইনে সাজার পরিমাণ অনেক কম। এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য আইনে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রাখার দরকার ছিল। লঘুদ- দিয়ে অর্থপাচারের মতো দুর্নীতির অপরাধ রোধ করা যাবে না। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে সাজার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

এর আগে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর নিউমার্কেট থানায় মামলা করে দুদক। মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৯ জনকে ১০ বছর করে কারাদ- দেন ঢাকার তৎকালিন ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আতাবুল্লাহ। দ-িত আসামিরা হলেন, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নওরিন হাসিব, খাজা সোলেমানের বাবা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, ম্যানেজার রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ খান ও এস এম শোয়েব-উল-কবীর।

রায়ে আসামিদের ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৮৬ টাকার দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩০ কোটি ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৩ টাকা অর্থদ- দেয়া হয়। ওই অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে তাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়াসম্পন্ন হয় অধিকাংশ আসামির অনুপস্থিতিতে। প্রায় সবাই পলাতক থাকলেও ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর মোস্তাক আহমদ খান ও এসএম শোয়েব-উল-কবীর আত্মসমর্পণ করেন। এরপর শোয়েব-উল কবীর নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন। এ আপিল এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। এ পরিস্থিতিতে তিনি জামিন আবেদন করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে অর্থপাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছর।

প্রসঙ্গত : বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫টি ব্যাংক থেকে ১২শ’ কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকে একাধিক মামলা এখনও চলমান। -ইনকিলাব

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত