প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বদমাইশ যাচ্ছে জেটপ্লেনে আর শ্রমিক এল পায়ে হেঁটে’, কর্মীসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে প্রাক-নির্বাচনী কর্মীসভায় ঝড় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনআরসি-এনপিআর থেকে বাজেট বিজেপিকে হুল ফোটানোর একটি সুযোগও ছাড়লেন না। মুখ খুললেন দলত্যাগীদের নিয়েও। মমতার উবাচ, “বিজেপিতে গিয়েছো, লঙ্কা কাণ্ড ঘটাবে তোমারই লেজে আগুন দিয়ে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে এদিন তোপ দেগে বলেন, “ওরা দেশ, জনজাতি বেচে দেবে। জাতপাতে ঝগড়া লাগিয়ে দেবে। ভ্রষ্টাচারীরা প্লেনে যায় আর পরিযায়ী শ্রমিকরা ট্রেনভাড়া পায় না।” ভ্রষ্টাচারী বলতে যে বিজেপির রাম-লক্ষণ তথা শুভেন্দু রাজীবের কথাই বলা হচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকল না পরেন মন্তব্যেই। আত্মবিশ্বাসী মমতা বললেন, “বিজেপিতে যারা যেতে চান যেতে পারেন। ভোগীদের যাওয়ার পথ খোলা।” মমতার কথায়, বিজেপি লোভে, ভোগে ভরে গেছে। দলটা দাঙ্গা করে করে পচে গিয়েছে। ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছে বিজেপি, এমনটাই বললেন মমতা।

মঙ্গলবার বর্ধমানে সভা করে মানিক সরকার বলে গিয়েছিলেন, ত্রিপুরা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা। বাম নেতার সুর মমতার গলাতেও। বললেন, কী অবস্থা ত্রিপুরা- অসমে সেটা ওখানকার রিক্সাওয়ালা-চাওলায়াকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে । এনপিআর নিয়ে শক্তিপ্রদর্শন আমাদের এখানে হতে দেবো না।

উত্তরে জমি ফেরাতে মরিয়া মমতা বার্তা দিলেন সব জনজাতিকেই। বললেন, “আমাদের বাঙালি অবাঙালি কিছু নেই। আমরা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। গুজরাট বাংলা শাসন করবে না। বাঙালির হাতেই থাকবে বাংলার হ্রাস।” মমতার আশ্বাস ক্ষমতায় এলে, বিনা পয়সায় রেশন, বিনা পয়সায় শিক্ষা তারাই দেবেন।

মমতা এদিন বিজেপির সোনার বাংলা প্রকল্পকে কটাক্ষ করে বলেন সোনার বাংলা চাই না, চাই রুটি কাপড় ঘর। তিনি আরও একবার পাহাড়ের চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের বার্তা দিয়ে বলেন, ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি চা সুন্দরী পরিকল্পনার জন্য। আত্মবিশ্বাসী মমতা বলছেন, বিধানসভা নির্বাচন হয়ে যাক, বুঝে যাবেন, তৃণমূলের আসন দখল অত সোজা নয়। সারাজীবন লড়েছি, আরও লড়ব। বিজেপিকে আসন দখল করতে দেবো না।

আসে বাজেট প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, মানুষ বিরোধী, কৃষক বিরোধী বাজেট করেছে কেন্দ্র। কেরোসিনের ভর্তুকিটুকুও তুলে দিয়েছ। পেট্রোল জিডেলে সেস লাগিয়ে দিয়েছে। পরিবহণ বাজেট প্রসঙ্গ টেনে মমতা বললেন, “বাংলায় ৮৫ হাজার কিমি রাস্তা করেছি। এখন বলছে ৬৫০ কিমি রাস্তা করবে।” নাম না করে মোদিকে বললেন, “আপনি আসুন একটু হাঁটি হাঁটি পা পা করে যান।”

তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, টাকা দিয়ে ভোট কিনছে বিজেপি। টিপ্পনির সুরেই তিনি বললেন, বিজেপি টাকা দিলে নিয়ে নিন। কিন্তু ভোট দেবেন না।

উন্নয়ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতার দাবি, আমরা চাই উন্নয়ন ওরা চায় বিসর্জন। তিনি বলেন, সারা ভারতে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব বেড়েছে। আমাদের বেকারত্ব কমেছে চল্লিশ শতাংশ।

লোকসভা ভোটে উত্তর কার্যত বেদখল হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন এবছর মসনদ ধরে রাখতে উত্তরের ৫১ আসনের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকটি আসনে জয়লাভ করতেই হবে। আর তার জন্য চাই কর্মীদের মনোবল বাড়ানো। এ কাজে মমতা যে কতটা পারঙ্গম, তা বুঝিয়ে দিল এদিনের জনসভায় কর্মীদের উন্মাদনা।
সূত্র- নিউজ১৮

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত