প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে করোনা নিয়ন্ত্রণে : বাংলাদেশ এখন করোনার চেয়েও শক্তিশালী

ডেস্ক রিপোর্ট :  সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ এর তাণ্ডব চলছে, হাজারে হাজারে মানুষ মারা যাচ্ছে, উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তা স্বীকার করেছে। গত দুই সপ্তাহে সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে গত ২৪ ঘণ্টায় তা নেমেছে তিন শতাংশের নিচে। গত এপ্রিলের পর পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার কখনও এত কম ছিল না।

একসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, “করোনাভাইরাস এমন কোনো শত্রুশক্তি নয় যাকে পরাজিত করা যাবে না। আমরা করোনাভাইরাসের চেয়ে শক্তিশালী। জাতি হিসেবেও আমরা শক্তিশালী। কাজেই ভয়কে জয় করতে হবে।” তাই বলা যায়, বাংলাদেশ এখন করোনাভারাসের চেয়েও শক্তিশালী।

 

বাংলাদেশ করোনার টিকা প্রয়োগও শুরু করেছে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। তবে গণটিকা শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে ৭০ লাখ টিকা। প্রতি মাস ভারত থেকে আসবে ৫০ লাখ করে। আবার বিশ্বজুড়ে টিকা বিতরণে গড়ে উঠা জোট কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া যাবে আরও পৌনে সাত কোটি টিকা।

এই অবস্থার মধ্যে করোনার সংক্রমণ কমে আসায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরছে। সরকার স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার চিন্তাও করছে।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৫৭৮ জন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন চার লাখ ৮১ হাজার ৩০৬ জন। সংক্রমণ বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ১১ পুরুষ ও দুই জন নারী।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে সরকার।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাস শনাক্তের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। আর মৃতের দিক থেকে ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের প্রায় সব দেশ লকডাউন দিলেও বাংলাদেশ কখনও সে পথে হাঁটেনি। তবে ঘরের বাইরে মানুষের চলাচল সীমিত করতে গত বছরের ২৬ মার্চ ঘোষণা করা হয় সাধারণ ছুটি। চলে ৩০ জুন পর্যন্ত।

এরপর একে একে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। তবে এখনও বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা এসেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় ‘করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল’। এটি চিঠি দিয়েও জানিয়েছে তারা।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গও প্রশংসা করেছে বাংলাদেশের। ডিসেম্বরের শেষের দিকে ‘কোভিড রেজিলিয়েন্স র‌্যাংকিং’-বাংলাদেশকে বিশ্বে ২০তম ও দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ অবস্থানে রাখা হয়।

অবশেষে করোনা নিয়ন্ত্রণে

গত ২১ জানুয়ারি ভারত থেকে উপহারের ২০ লাখ টিকা আসে। চারদিন পর আসে বাংলাদেশের কেনা ৫০ লাখ
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক আঘাত মোকাবিলায় সক্ষমতাসহ বিভিন্ন সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই র‍্যাংকিং প্রকাশ করছে ব্লুমবার্গ। নভেম্বরে ২৪তম স্থানে ছিল বাংলাদেশ। এক মাসে চারধাপ উপরে উঠে এসেছে দেশটি।

বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসও বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের আট নারীর অবদান বিশ্বজুড়ে ‘স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য’।

ম্যাগাজিনের নিবন্ধে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেওয়া ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ-বাংলাদেশ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে এক পরিচিত নাম।

শেখ হাসিনা তার দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে ক্ষমতা দেখিয়েছেন তা ‘প্রশংসনীয়’ বলে এক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামও।

গত দুই সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের হার কত?

গত ১৭ থেকে ১৮ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় যত নমুনা পরীক্ষা করা হয়, তার মধ্যে সংক্রমণের হার পাওয়া যায় ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এরপর প্রতিদিনই এই হার ছিল পাঁচ শতাংশের কম। ১৯ জানুয়ারি পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ৪.৬৫।

গত ২০ জানুয়ারি এই হার ছিল ৪.২৬ শতাংশ, পরের দিন যা সামান্য বেড়ে হয় ৪.৭ শতাংশ।

গত ২২ শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৪.১৭ শতাংশ, যা গত ২৩ জানুয়ারি আরও কমে হয় ৩.৯২ শতাংশ।

২৪ জানুয়ারি আরও কমে ৩.৩৪ শতাংশ শনাক্ত হলেও পরের তিন তা আবার বেড়ে হয় ৪.০৬ শতাংশ।

২৬ জানুয়ারি আবার শনাক্তের হার কমে হয় ৩.৩৬ শতাংশ। পরের দিন তা প্রায় সমান থাকে। সেদিন শনাক্তের হার পাওয়া যায় ৩.৪৩ শতাংশ।

২৮ জানুয়ারি শনাক্তের হার কিছুটা বেড়ে হয় ৩.৭৬ শতাংশ, পরের দিনও তা থাকে একই রকম, ৩.৭৬ শতাংশ।

৩০ জানুয়ারি পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার আরও কমে হয় তিন শতাংশ, পরের দিন যা দাঁড়ায় ৩.০২ শতাংশ।

১ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার কিছুটা বেড়ে হয় ৩.৫৫ শতাংশ, যা ২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়ায় ৩.৬৩ শতাংশ।

গত টানা ১৬ দিন করোনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ পাঁচ শতাংশের নিচে হলে করোনা নিয়ন্ত্রণে বলা যায়।
সূত্র- নিউজবাংলা২৪

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত