প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহ্ আলী ফরহাদ : প্রধানমন্ত্রীর লোক আমরা, নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে টার্গেট নির্দিষ্ট!

শাহ্ আলী ফরহাদ : আল-জাজিরার ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’ স মেন’ নামক ‘সিনেমাটা’  ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও দেখলাম। মেকিং ভালো। মিউজিক চমৎকার। বোঝাই যাচ্ছে ভালো খরচ গিয়েছে। ২০-২৫ হাজার টাকার ভিডিও বাজেট থাকে আমার। তাই ২-৩ কোটি টাকার প্রোডাকশন দেখে কিঞ্চিৎ হিংসাও হলো। কারণ ২৫ হাজার টাকায় সত্যটারও ‘গ্লামার’ কমে যায়, আর কোটি টাকা দিয়ে মিথ্যাকেও ‘এপিলিং’ করে ফেলা যায়।  যাক গে, আসল কথায় আসি।

[১] প্রধানমন্ত্রীর লোক আমরা- নাম দেখেই বুঝা যাচ্ছে টার্গেট নির্দিষ্ট। আমাদের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কোনো যোগসূত্র পেলাম না। মুখে শোনা কথা- অর্থাৎ হিয়ারসেই সব। কয়েকজনকে বিদেশে বসে বলতে শুনলাম দেশ নাকি তারাই চালান। এরকম ক্যারেক্টার আমি প্রায়ই দেখি। সরকারি প্রজেক্টের তদবির থেকে সরাইলের চায়ের দোকান পর্যন্ত- এই কিসিমের লোকের এই দেশে বা এই অঞ্চলে কোনোকালেই ঘাটতি ছিলো না, ধরে নেওয়া যায় সামনেও হবে না।

[২] বোঝাই যাচ্ছে এই কাজের মূল কারিগর বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেভিড বার্গম্যান। যে কিনা বাংলাদেশে শহীদের সংখ্যা ৩-৫ লাখ লিখে আদালত কর্তৃক অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছিলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে লেখালেখি করে ‘জামায়াতের লবিয়িস্ট’  হিসেবে নামডাক ছড়িয়ে যাবার কারণে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো। আর যার গত কয়েক বছরের একমাত্র কাজ প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের পিছে বিএনপি-জামায়াতের অনলাইন কর্মীদের মতো ২৪ ঘণ্টা লেগে থাকা।

[৩] চিন্তা করেন এক ঝাঁক মাথা গরম, রক্ত গরম পোলাপাইন। খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামল। ফ্রিডম পার্টির ক্যাডাররা ওপেনলি অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। শেখ হাসিনার ৩২ নম্বরের বাড়িতে একাধিকবার আক্রমণ করেছে। তাদের আব্বারা, মানে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা, বীর দর্পে খোলা জিপে ঘুরে বেড়াচ্ছে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এলাকায়। আল-জাজিরার অ্যানিমেশনে দেখলাম, মাথা ও রক্ত গরম তিন ভাই মিলে, ওই খুনিদের একটি এলাকার মূল ক্যাডাররে গুলি করে হত্যা করলো।

এখন আপনি বলেন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশ পালিয়ে যেতে কে দিয়েছিলো? তাদের দেশে ফিরে রাজনীতি করার অনুমতি কে দিয়েছিলো? তাদের বিচার করার পথ আইন করে কে বন্ধ করেছিলো? তখন কোনো ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলো তারা? তখন বাদ দেন, এখনো যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে খুনিরা আছে, তাদের নিয়ে তারা ডকুমেন্টারি বানিয়েছে কোনো? না। তারা বানাবে এই খুনিদের যারা খুন করেছে তাদের নিয়ে। কারণ বাজেট সেই খাতে বেশি। আমি খুব কঠিন একটা কথা বলবো। এর জন্য আমাকে কয়টা কথা শুনতে হলেও আমি বলবো-জোসেফ, আনিস ও হারিস অনেক খারাপ বুঝলাম। কিন্তু যেই অপরাধের অভিযোগের জন্য দুই ভাইকে বিদেশে পালিয়ে থাকতে হয় সেইটাকে অপরাধের পর্যায়ে ফেলানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

[৪] যদিও আমি বার্গম্যান গংদের সংশ্লিষ্টতা থাকলে পুরো বিষয়টিকেই রাজনৈতিকভাবে দেখি। কারণ আমরা ভালো করেই জানি এই গ্রুপকে দিয়ে কারা বিভিন্ন কাজ করায়, তারপরেও কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা সেদিকে নজর রাখলাম পুরো এক ঘণ্টা।  পেলাম না কিছুই। হাঙ্গেরির এক লোক, ছায়ার মধ্যে থেকে কথা বলা এক লোক, কিছু ইমেইলের ব্যাপার (কিন্তু ইমেইলের কোনো কপি দেখায়নি), টেপ যেটা যে কারও কণ্ঠই হতে পারে (আমি নিজেও এক কালে ডিপজলের গলা ভালো নকল করতে পারতাম), আর একগাদা বায়বীয় সূত্র ও কানেকশন।

পরিশেষে এইটুক বলতে চাই আমারে কেউ একটা ভালো বাজেট ম্যানেজ করে দিন। আমিও সেনসেশনাল কাজ করতে চাই একটি চক্র নিয়ে। নাম হবে: ‘অল দ্য প্রিন্সে’ স মেন, উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন’। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত