প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমতিয়াজ মাহমুদ : মিয়ানমারে একটা গণতান্ত্রিক রূপান্তর জরুরি

ইমতিয়াজ মাহমুদ : মিয়ানমারে একটা গণতান্ত্রিক রূপান্তর জরুরি। এটা কেবল মিয়ানমারের জনগণের জন্যই নয়, আমাদের দেশসহ আশে পাশের সকল দেশের জন্যই এটা জরুরি। মিয়ানমারে জন্য সেরকম একটা রূপান্তর সবসময়ই কঠিন ছিলো, এখন সেটা আরও কঠিন হয়ে গেলো। আমি সবসময়ই চেয়েছি বার্মায় যেন কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থার বিকাশ ঘটে, এখনো আমি সেটা কামনা করি। এখনো আমি চাই বার্মায় সকল রাজনৈতিক দল ও শক্তি যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তাদের সংবিধানে মিলিটারিকে যেসকল ক্ষমতা দেওয়া আছে সেগুলো যেন রদ করা হয়। তাদের সকল প্রাদেশিক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল পর্যায়ে যেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ক্ষমতায় থাকে।

তরুণ বন্ধুরা যারা বার্মা রাষ্ট্রের, যে রাষ্ট্রটি এখন মায়ানমার বা মিয়ানমার নামে পরিচিত, ইতিহাস জানেন না তাদের অনুরোধ করবো তাদের ব্যাপারটা সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও জেনে নেবেন। আজকের বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের মতো মিয়ানমার একসময় ব্রিটিশ কলোনি ছিলো। কলোনিয়াল শাসনের শেষ পর্যায়ে ভারতবর্ষ (আমাদের দেশও তার অংশ ছিলো) যেমন ব্রিটিশদের ১৯৩৫ সনের ভারত শাসন আইনে শাসিত হতো, বার্মার জন্যও তাদের সেরকম একটা ১৯৩৫ সনের বার্মা শাসন আইন ছিলো। আমাদের মতো বার্মাও ১৯৪৭ কলোনিয়াল শাসন থেকে মুক্ত হয়। ভারত, বার্মা ও পাকিস্তান নামক তিনটি রাষ্ট্র একই সময় যাত্রা শুরু করে। রাষ্ট্র হিসাবে বার্মার যাত্রাটা খারাপ ছিলো না। দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের ব্যাবস্থা রেখে একটা ফেডারেল পার্লামেন্টারি ব্যাবস্থার সংবিধান গ্রহণ করেছিলো তারা।

১৯৬২ সনে জেনারেল নে উইন মিলিটারি ক্যু করে ক্ষমতা দখন করে নেয়। এই লোকের কথা ছিলো বার্মার মানুষ পার্লামেন্টারি গণতান্ত্রিক শাসনের যোগ্য না- এখানে এক দলীয় শাসন চলবে। তারপর এই লোক বার্মিজ স্টাইল সমাজতন্ত্র’ নামে এক বিচিত্র শাসনব্যাবস্থা চালু করে। দীর্ঘদিন এই ডিক্টেটরএর অধীনে ছিলো বার্মা। বার্মার মানুষ দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে। বার্মার কমিউনিস্টরাও লড়েছে। হাজার হাজার ছাত্র তরুণ সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। শেষে নে ইউনের উৎখাত হয় আরেকটি সামরিক ক্যুএর মাধ্যমে। বার্মার মিলিটারি শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিকভাবে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে নিয়েছে।

আপনাদের মনে থাকবার কথা একটা ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করে প্রথমে একটা নয়া সংবিধান তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলো বার্মার সামরিক শাসকরা। সু চির নেতৃত্বে এনএলডি সংবিধান তৈরির কনভেনশন বয়কট করে। তাদের দাবি ছিলো আগে চাই নির্বাচন। ২০০৮ সনে মিলিটারি শাসকরা নিজেরাই একটা সংবিধান বানিয়ে সেটা গণভোটে পাস করিয়ে নেয়। সেটা ছিলো আমাদের জয়াউর রহমানের হ্যাঁ অথবা না ভোটের মতো অনেকটা। এই নয়া সংবিধানের অধীনেই নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করেছিলেন সু চি।

২০০৮ সনের সেইসংবিধানে বার্মার শাসন ব্যাবস্থায় মিলিটারিদের মাস্তানির বিধান রাখা হয়েছে। যেমন সংসদ যেটা আছে, সেটার শতকরা পঁচিশভাগ আসন বরাদ্দ আছে সেনাবাহিনীর অফিসারদের জন্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ তিনটা কী চারটা মন্ত্রণালয়কে রাখা হয়েছে আর্মির অত্ত্ববধানে। এরকম সব নানা প্রকার বিধান নিয়েই নির্বাচনে জিতেছিলেন সু চি। কিন্তু প্রথমবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেরকম বেশি ছিলো না। এবারের নির্বাচনে সু চির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনেক বেশি ছিলো। পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যার হিসাবটা ভুলে গেছি, কিন্তু সু চির এনএলডি গত নভেম্বরের ইলেকশনে ভোট পেয়েছিলো শতকরা ৮৩ শতাংশ।

এর মানে কি? এর মানে হচ্ছে সু চি যদি এই টার্মে আবার ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারতেন এবং এই সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থাটাও যদি চালু থাকতো তাহলে এনএলডি আর তাদের মিত্রদের পক্ষে দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার হয়তো অদূর ভবিষ্যতেই সম্ভব হতো। এই যে আজ আবার সেখানে মিলিটারিরা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ক্ষমতা নিয়ে নিল আর সু চি সহ গণতান্ত্রিক নেত্রীবৃন্দকে গ্রেফতার করলো, এর ফলাফল কি হবে? এটা যে বার্মার গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য ভালো হলো না সেটা তো বলাই বাহুল্য।

আমাদের জন্য কি এটা ভালো হয়েছে? নিতান্ত গাধা না হলে কেউ বলবে না যে বার্মায় মিলিটারি শাসন আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। আপনার প্রতিবেশি দেশে মিলিটারি শাসন থাকা আপনার জন্যে ভালো হতে পারে না। বিশেষ করে যখন সেই দেশ থেকে দশ বারো লক্ষ মানুষ পালিয়ে এসে আপনার দেশে আশ্রয় নিয়ে বসে আছে। বার্মায় পূর্ণ গণতন্ত্র থাকলে সেখানকার শাসকদেরকে সংসদে জবাব দিতে হতো, কেন রোহিঙ্গাদের এই অবস্থা। খবরের কাগজে লোকে লিখতে পারতো। বিবেকবান গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন মানুষ কম হলেও তারা কথা বলতে পারতো এবং তাদের কথা অন্যদের শুনতে হতো। এখন? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত