প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান শান্তনু : পড়শি ঘরে উর্দির আগুনে ঢাকার উদ্বেগ কতোটুকু?

হাসান শান্তনু : ঢাকার সিনেমার সফল এক অভিনেত্রীর ‘একতরফা ব্যর্থ প্রেমিক’, বিএনপির নেতা ড. আবদুল মঈন খানের ভাগ্নি আছেন যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার ‘ক্ষমতায় পরিবর্তনে কাজ করবেন’ বলে যেসব ‘কথাবার্তা’ সামাজিক মাধ্যমে ছড়াছে, সেগুলো হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হলে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ‘এই- সেই হতোর তুলনায় আরও নিচু মানের ‘খোয়াবনামা’। যদিও এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ‘রাজনীতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ক্ষমতায় পরিবর্তনের বছর’  বলা হচ্ছে ২০২১ সালকে।

এমন বছরের প্রায় শুরুতে পড়শি দেশ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ঘটনা নানা কারণে বাংলাদেশের জন্য চিন্তার, কিছুটা হলেও উদ্বেগের। পড়শিবাড়ির সামরিক আগুনের আঁচ বোঝার চেষ্টা বেশ সতর্কতার সঙ্গে করছে ঢাকা। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষে নতুন সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার আগমুহূর্তে কেন মিয়ানমারে এমনটা ঘটলো, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর হিসাব মেলাতে চেষ্টা করছেন। যদিও এর ব্যাখ্যা খুব কঠিন নয়।

আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ‘আগামীকালের অনুষ্ঠান পরিচিতি’ পড়ে নিলে দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়ে আপাতত পরিষ্কার ধারণা মেলে। মিয়ানমারে নাটকীয় কিছু ঘটলে বিশ্লেষকদের চোখ থাকে চীনের দিকে। ক্যু নিয়ে চীন এখনো ‘আনুষ্ঠানিক’ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দেশটির সরকারি মুখপত্র ‘গ্লোবাল টাইমসে’ অভ্যুত্থানের সংবাদ এসেছে অভ্যুত্থানকারীদের বক্তব্যসহ। এ সেনা অভ্যুত্থানে চীনের সমর্থন আছে বলেই বিশ্লেষকদের সন্দেহ। একই সঙ্গে আছে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দশটি দেশের জোট ‘আসিয়ানের’ সদস্য কয়েকটি দেশ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ মনে করছে। জোট ও এর বেশিরভাগ সদস্য দেশ বিষয়টির সরাসরি নিন্দা এখনো করেনি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দুই বড় শক্তি ভারত, জাপানের অবস্থানের বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বলা যায়, প্রকাশ্যে দেশ দুটি মিয়ানমারের জান্তা সরকারের আপাতত পক্ষ নেবে না। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুরকেই নিজেদের স্বার্থের চিন্তা মাথায় রেখে কিছুটা সম্পাদন করে কথা বলবে।

সেনা ক্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্ররা ‘কড়া ভাষায়’ প্রতিবাদ জানিয়েছে, কী জানায়নি- এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিবৃতি, নিন্দা- এগুলো সেকেলে কূটনৈতিক কৌশল। শক্তিশালী দেশগুলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই বেশি গুরুত্বের। কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন তার বৈশ্বিক প্রতিদ্বদ্বী চীনকে (ক্যুতে চীনের সমর্থনের বিষয়টি সন্দেহের তালিকায়) মিয়ানমার ইস্যুতে ‘কোণঠাসার রাজনীতি’ বেশি করবে, এমন সন্দেহের যৌক্তিক কারণ আছে। মিয়ানমার সামরিক শাসনে থাকা, বা না থাকার সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

ঢাকার সম্পর্ক মিয়ানমার রাষ্ট্রটির সঙ্গে। তবু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চলমান ঢাকা-নেপিডোর আন্তরাষ্ট্রীয় আলোচনা শাসকশ্রেণি বদলের পর এখন কোন দিকে গড়ায়, তা ঢাকার জন্য কিছুটা হলেও চিন্তার। নির্বাচিত, গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার যে প্রত্যাশা করা যায়, ফৌজি সরকারের বেলায় সেই প্রত্যাশা সবসময় কাজ করে না। এসব কারণে ঢাকা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, ‘মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক পন্থা সমুন্নত থাকার প্রত্যাশা করে।

মিয়ানমারের ভেতরেও সামরিক অভ্যুত্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনা আপাতত তেমন নেই। যদিও অং সান সু চির দল অভ্যুত্থান প্রত্যাখ্যান করে জনগণকে প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে। সু চির ডাকে জনগণ রাস্তায় নেমে আসবেন, এমনটা তার দলের অনেকেই হয়তো মনে করেন না। একসময়ে মিয়ানমারে ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক’  সুচি ক্ষমতাসীন হয়ে গণতন্ত্রের জন্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি, এমনকি গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বোধ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে জাগাতে পারেননি। সু চির নির্দেশে যে রোহিঙ্গারা বেশি রাজপথে নামতেন, তারা তার চোখের সামনেই নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত। তার আজকের অবস্থা নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার বাক্য ধার করে বলা যায়- এতোদিনে সু চির শুষ্ক গালে চুম্বনের দাগ পড়েছে । ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত