প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সাতক্ষীরায় দিন দিন বাড়ছে পাটশিল্পের কদর, স্বাবলম্বী গ্রামীন নারীরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : [২] পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হয়। পাটের তৈরিকৃত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদশিক মুদ্রা অর্জিত হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিকের ব্যবহারে এই শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারপরও থেমে থাকেনি পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের ব্যাবহার।

[৩] বর্তমানে জেলায় দিন দিন বাড়ছে পাটশিল্পের কদর। গ্রামের নারীরা পাটজাত পণ্য তৈরি করে হচ্ছেন স্বাবলম্বী, পেয়েছেন সাফলতা। বর্তমানে জেলার শত শত নারীরা সংসারের যাবতীয় কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে তাদের অলস সময়কে কাজে লাগিয়ে বাড়িতে বসে অথবা দলবদ্ধভাবে পাটের দড়ি তৈরী করে নিজেদের জিবিকা নির্বাহ করছেন। আর এই দড়ি থেকেই তৈরী হচ্ছে পাটের ব্যাগ, ম্যান্ডেলা, ঝুড়ি, পাপোস, ওয়ালম্যাটসহ বিভিন্ন পণ্য। বর্তমানে সে সব পণ্য দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

[৪] জেলার ৮০ থেকে ৯০ টি গ্রামের শতকরা ৯৫ ভাগ নারী ও শতকারা ৫ ভাগ পুরুষ এই দড়ি তৈরী করে প্রতিমাসে আয় করছেন সর্বনিম্ন ছয় থেকে আট হাজার টাকা। আর তা দিয়েই চলছে সন্তানদের লেখাপড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ।

[৫] আর এই নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় ঋশিল্পী হ্যান্ডক্রাফট লিমিটেড জুট সেন্টার নামক বেসরকারি একটি সংস্থা। তাদের তত্ত্বাবধানে পাটের তৈরি পণ্য জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে প্রতি বছর। এ লাভের টাকা দেয়া হচ্ছে নারীদের মাঝে।

[৬] পাটের দড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত সাতক্ষীরা সদরের বাটকে খালির কবিতা রানী ও চালতে তলা এলাকার তাহমিনা খাতুন জানান, জেলার হাট বাজার থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাট ক্রয় করে থাকেন। আর এক কেজি পাটে তারা ১৩০০ থেকে ১৫০০ হাত চিকন পাটের দড়ি এবং ৪০০ থেকে ৫০০ হাত মিডিয়াম পাটের দড়ি বুনতে পারেন। যেগুলো তারা ঋশিল্পী জুট সেন্টারে চিকন দড়ি ১০০ হাত ৩৫ টাকা, মিডিয়াম দড়ি ১০০ হাত ৫৫ টাকা মূল্য বিক্রয় করে থাকেন।

[৭] এভাবেই তারা প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকারও বেশি আয় করে থাকেন। তবে সরকারী ভাবে পাট থেকে নিত্য নতুন পণ্য তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে নারীরা আরো বেশি করে এই পেশায় আগ্রহী হবেন বলে তারা মনে করেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত