প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাইদুল ইসলাম: নির্বাচন কমিশনের ফাঁসি চাই

সাইদুল ইসলাম: গনতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ও মূখ্য উপাদান হলো নির্বাচন। একই সাথে নির্বাচনকে গনতন্ত্রের পূর্বশর্তও বলা হয়। নির্বাচনের অর্থ হচ্ছে, একই পদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে হতে জনগণের রায়ে একজন প্রার্থী বাঁচাই করা। পৃথিবীর সকল গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যারা ক্ষমতাসীন হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তারা নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যগরিষ্ট জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৪৭ সালে ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হলেও পাকিস্তানের করায়ত্ত থেকে মুক্তি পায়নি পূর্ব পাকিস্তান। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও এর পরবর্তীতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে নানা অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখে ৭০ এর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়েও আওয়ামীলীগ সেদিন ক্ষমতা গ্রহ করতে পারেনি। যার ফলশ্রুতিতে চূড়ান্ত রুপ গ্রহণ করেছিল “স্বাধীনতা” নামের ৭ কোটি অধিকার বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বানী।

যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে না পারার কারণে ৩০ লক্ষ শহীদের জীবন ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই বাংলাদেশে সেই আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্বাচন আজ নির্বাসনে। এ যেন আপন সন্তানকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করার মতো।

সাংবিধানিক সাতটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা সহ অন্য চার কমিশনার সংবিধান সমুন্নত রেখে এবং দল-মতের উর্ধে থেকে কোন প্রকার অনুরাগ বিরাগের বশবর্তী না হয়ে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই শপথ, সেই পবিত্র দায়িত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এরা আজ একেকটা দানবে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন সহ সাধারণ একটি ইউনিয়ন নির্বাচনও এরা নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত করার ক্ষমতা রাখেনা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে পরে গঠিত বিভিন্ন সংঘর্ষ কিংবা হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিতে পারেনি এই অথর্ব কমিশন। উল্টো ভোটের আগের রাতে ভোট কাস্ট করার বিরল লজ্জা কামাই করে পূর্ণ করেছে তাদের কুকীর্তির ঝুলি। মানুষ এখন আর ভোট কেন্দ্রে যায় না। কোন কোন নির্বাচনী আসনে শতকরা ৫ ভাগও ভোট কাস্ট হয়না। আবার যেখানে ব্যালটে ভোট হয়, সেখানে শতভাগ অতিক্রম করে মোট ভোটারের দ্বিগুণ ভোট কাস্ট হয়ে যায়। সন্ত্রাসের ভয়ে জীবিত মানুষ যেখানে ভোট দিতে পারেনা সেখানে মৃত মানুষ অনয়াসে ভোট দিয়ে চলে যায়। যে দেশে ভোট ছিলো উৎসব, সে দেশে এখন ভোট মানে প্রহসন। নির্বাচন কমিশনের পরিচয় নিয়ে জাতি আজ সন্ধিহান। প্রশ্ন এসেছে এরা সংবিধান রক্ষার শপথ নেয়া দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী নাকি ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী দালাল?

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে এ যাবৎকালের সবকটি নির্বাচনকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, পৃথিবীর সবচেয়ে বিতর্কিত, নিকৃষ্ট নির্বাচন কীভাবে হয় তার উদাহরণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন । বাংলাদেশের ইতিহাসে হুদা কমিশনের মত অথর্ব, অযোগ্য, চাটুকার, দেশদ্রোহী নির্বাচন কমিশন সাদেক-আজিজ কমিশনকেও হার মানিয়েছে। এই মেরুদণ্ডহীন কমিশন শুধুমাত্র একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুন্ন কিংবা ভাবমূর্তি হরণ করেনি, এরা এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে চিনিমিনি খেলছে। রাষ্ট্র, সংবিধান এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতাকে তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র রাতের ভোটে ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের পদলেহনে এরা ব্যাস্ত সময় পার করছে।

এদেশের স্বাধীকার আন্দোলনের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্ঠা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মেয়ে আজ নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাৎ পায়না। ভাবা কতবড় জমিদার হয়েছে এই কমিশন? টাঙ্গাইল পৌরসভায় ভোটে অনিয়ম কারচুপির প্রতিবাদে মাহমুদা খানম ভাসানী টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে অবস্থান পালন করছেন। এত মানুষের ঘৃনা, অভিশাপ নিয়ে এই নির্লজ্জ হুদা কমিশন ঘুমায় কি করে?

আজ নির্বাচন শুনলে মানুষ দাঁত খিলিয়ে হাসে। স্বয়ং ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতারাও এতদিন গোপনে গোপনে বললেও এখন প্রকাশ্যে স্বীকার করেন এদেশে এখন আর কোন ভোট হয় না। এদেশে এখন জনগণের কর-ভ্যাটের টাকা অপচয় করে নির্দিষ্ঠ দলের নির্দিষ্ট প্রতীকের প্রার্থীকে কাগুজে বৈধতা দেওয়া হয়। মানুষ এখন আর ভোটকেন্দ্রে যায় না। মানুষের মনে একটা বিশ্বাস বদ্ধমূল যে, ভোট এখন রাতে হয় না, তাহাজ্জুদের আগে ভোটের বাক্স ভরে যায়। সেই উচ্ছাস,আবেগ আর উৎসব এখন সহিংসতা, কেন্দ্র দখল আর আজব মেশিন ইভিএমের করায়ত্তে।

গত ১৪ই ডিসেম্বর দেশের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ সংশ্লিষ্ট গুরুতর অসদাচরণ এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও অন্যান্য গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে অভিশংসনের দাবী জানিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখেছিলেন এবং বিবৃতি প্রদান করেন। কিন্তু আমি হুদা কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে যে সমস্ত দুর্নীতি, অনিয়ম, কারচুপি, কেন্দ্রদখল, জাল ভোট, রাতের ভোট, প্রশাসনের নিরব ভূমিকা, ভোট চুরিতে পুলিশের সহায়তা, হামলা, গায়েবি মামলা, ভাঙ্গচুর, ধর্ষন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত আলাউদ্দিন হত্যার দায় সহ সকল হত্যার দায়ে জনতার আদালতে হুদা কমিশনের ফাঁসি চাই।

সাইদুল ইসলাম
যুক্তরাজ্য প্রবাসী সংবাদকর্মী
[email protected]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত