প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রুকনুজ্জামান অঞ্জন : সে ফ্যাশন সচেতন বলে কেন সামিয়া ?

রুকনুজ্জামান অঞ্জন: ‘‘সামিয়া রহমান হচ্ছেন একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, উপস্থাপিকা ও শিক্ষিকা।

২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে গবেষণা কর্মে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠে এবং ২০২০ সালের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে তার যৌথভাবে লেখা ৬টি একাডেমিক গবেষণায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ লেখা চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।’’ গুগলে সার্চ দেওয়ার পর উইকিপিডিয়ার ইন্ট্রোতে উপরের এই তথ্যগুলো উঠে এলো।

আমি গত কয়েকদিন ধরে সামিয়া রহমান সম্পর্কে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণাগুলো দেখছিলাম। দেখে প্রচণ্ডরকম হতাশ হয়েছি ! কষ্ট পেয়েছি ! কষ্ট পেয়েছি এই কারণে, জাতি হিসেবে আমরা এত বেশি পরশ্রীকাতর, ঈর্ষাপরায়ণ- যে যখনই দেখলাম সামিয়া রহমানকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে- আর আমরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলাম। সমস্বরে চিৎকার করে উঠলাম ! কেউ কেউ চিয়ার্স বলে হাইফাইভ করলাম একে অপরের সাথে। আমাদের এক সপ্তাহের খোরাক হয়ে গেল সামিয়া।

ঘরে-বাইরে, দোকান-পাটে, রিক্সা-বাসে সর্বত্রই আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু সামিয়া রহমান। কেন সামিয়া ? সে একজন সাংবাদিক বলে কেন সামিয়া ? সে সুন্দর ও উচ্চ শিক্ষিত বলে কেন সামিয়া ? সে স্মার্ট ও সাহসী বলে এরকম অনেকগুলো কেন’র উত্তর আপনি বা আমি দিতে পারি যেখানে সামিয়া শীর্ষে । আমাদের সমাজে একজন নারী এভাবে দাপিয়ে বেড়াবে, এটা আমরা অনেকে মেনে নিতে পারিনি। হ্যা এটাই । আমি রিপিট করছি।

‘আমাদের সমাজে একজন নারী এভাবে দাপিয়ে বেড়াবে, এটা আমরা অনেকে (নারী এবং পুরুষ উভয়েই) মেনে নিতে পারিনি। এখানে দুটো ঘটনা ঘটেছে। (০১) আমাদের পুরুষতান্ত্রিক (অ) মানসিকতা সামিয়া’কে কখনোই ভালোভাবে নেয়নি। (০২) আমাদের প্রচলিত নারীসুলভ (অ) চেতনা সামিয়াকে কখনোই মেনে নিতে পারেনি। আর এ কারণে যখন তিনি চুলে কার্ল করে কোন একজন রাজনীতিকের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন; এবং তাকে নানা প্রশ্নে পর্যুদস্ত করছেন-তখন আমরা তার স্মার্টনেসের প্রশংসা না করে বলছি, দেখছো ঢং কত মাইয়ার ! চুলগুলা কেমন বিশ্রিভাবে ফাপাইয়া রাখছে। আর শাড়ি যা একখান পড়ছে .. কেন সামিয়া ?

সে ফ্যাশন সচেতন বলে কেন সামিয়া ? সে প্রতুৎপন্নমতিতার সঙ্গে প্রশ্ন করছে বলে হ্যা, এরকমই আমাদের বাংলাদেশের মানুষের গড়পড়তা মানসিকতা। এ কারণে, আরও কয়েকজন পুরুষ শিক্ষকের সাথে সামিয়া দোষী হলেও দোষ শুধু একা সামিয়ার। যেন এই দেশের বিবেকের দায় একা সামিয়ার ! অন্য শিক্ষকদের দায় নেই। তারা টুকলিফাই করলেও তাদের নিয়ে আলোচনা হবে না। বরং তাদের স্কলারশিপ দিয়ে কাউকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কাউকে বলা হবে, আরে ভাই কয়েকদিন চুপ করে থাকেন। ঘুরতে যান। কোথাও তো আপনার নাম উচ্চারণ হচ্ছে না। ফিরে আইসা শুরু করেন। একটা পদোন্নতির সুপারিশ কইরা দিমুনে ।

আগে ওই মা*টারে সাইজ কইরা লই..! আমার মনে আছে, কয়েকবছর আগে দেশের সেরা ক্রিকেটার আশরাফুল যখন ম্যাচ পাতানোর দায়ে অভিযুক্ত এবং ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হলেন, তখন দেশের বেশিরভাগ মানুষ, বিশেষত আমিও আশরাফুলের পাশে দাঁড়ালাম।

অনেক ভক্ত তার জন্য চোখের পানি ফেললাম। ক্রিকেট মাঠে তাঁর ফিরে আসার জন্য প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করতে লাগলাম। এবং উইকিপিডিয়াতে আশরাফুল সম্পর্কে কি ইন্ট্রো আছে শুনবেন ? ’’মোহাম্মদ আশরাফুল (জন্ম ৭ জুলাই ১৯৮৪) বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক ব্যাটসম্যান এবং অধিনায়ক। তিনি টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি করার রেকর্ডের অধিকারী। তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কারই মাটিতে।

ব্যাটিংয়ে দক্ষতা ছাড়াও তিনি মাঝে মাঝে ডানহাতে লেগ স্পিন বল করে থাকেন।’’ সবার শেষে দুই লাইনে ছোট্ট করে লেখা আছে তাঁর ম্যাচ পাতানোর তথ্য। আর সাকিব আল হাসানের বিষয়টা তো এখনও গরম গরম ..। কিন্তু আশরাফুল-সাকিব অন্যায় করার পরও তাদের ফিরে আসার প্রার্থনায় আমাদের চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায়..। আর সামিয়া রহমানের বেলায় ..ওকে ছুড়ে ফেলো ওই পবিত্র শিক্ষাঙ্গন থেকে। এর বাইরে কেউ নয়। আমাদের গণমাধ্যমও নয়।

এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একযোগে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত এবং শাস্তি হওয়ার পর আমাদের গণমাধ্যমগুলো কেবল সামিয়াকে নিয়েই মেতে রইলেন। কোন কোন গণমাধ্যম আবার শুধু শিরোনাম করলেন: ‘গবেষনায় চৌর্যবৃত্তি : সামিয়া রহমানের পদাবনতি’ কেন সামিয়া ? সে একজন নারী বলে কেন সামিয়া ? পেশাগতভাবে সে অনেকের চেয়ে যোগ্য বলে..

সর্বাধিক পঠিত