প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় বিএনপি তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারে সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে

মনিরুল ইসলাম: [২] রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সরকারি দলের সিনিয়র মন্ত্রী-হুইপ বলেন, বিএনপি তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে বর্তমান সরকারের সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সুপরিকল্পিতভাবে দুর্নীতির প্রশ্ন তুলছে।

[৩] সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সরকারি দলের আবদুল মজিদ খান, কাজী কানিজ সুলতানা, নুরুজ্জামান বিশ্বাস, মোজাফফর হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপির হারুনুর রশীদ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

[৪] আলোচনায় অংশ নিয়ে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে বিএনপি দিশেহারা হয়ে পড়েছে, জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে একে অপরকে তারা দোষারোপ করছে। তাদের একজন (তারেক রহমান) বিদেশে টাকা পাচার করে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে ফুর্তি করছে, নিজের আয়ের উৎস্য ক্যাসিনো উল্লেখ করেছে। ক্ষমতায় থাকতে তারা দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। গণতন্ত্রের নামে তারা দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু দেশে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। আর জিয়াউর রহমান মদ-জুয়া ও লাকি খানের ঝাঁকি নৃত্যর লাইসেন্স দিয়েছিল।

[৫] তিনি আরো বলেন, ঘোরতম দুঃসময়েও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্তী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন, ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে মানুষের মধ্যে বিতরণ করে অসহায় মানুষকে কষ্ট পেতে দেননি। ২১ দফা প্রণোদনা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

[৬] অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায় নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বিশ্ব এতো বড় অর্থনৈতিক মন্দা আর কখনও দেখেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ২০তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও পুঁজি বাজারের সূচক বেড়েছে।

[৭] তিনি আরো বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে আমরা অর্থনীতির এক অনন্য উচ্চতায় উঠে এসেছিলাম। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মসেতু নির্মাণ করছি। পায়রা, মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলি টার্নেল নির্মাণ হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যথা সময়ে বই পাচ্ছে। যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আমাদের জিডিপি ৩৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৮তম অর্থনীতির দেশ। আর ২০৪১ সালে হবে ২০তম অর্থনীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ বছরে দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন, যা রূপকথাকেও হার মানায়। তারপরও আমাদের উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

[৮] বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙা বিএনপি এমপির বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েই আমরা বিরোধী দলের আসনে বসেছি। আজ তারা (বিএনপি) জাতীয় পার্টি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে গালি দেন। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীতে দুটি বিশাল বাড়ি নিয়েছিলেন তখন আনন্দে নেচেছেন, তখন আমরা খুব ভালছিলাম। নির্বাচন ঠেকানোর নামে আপনাদের অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশবাসী দেখেছে। বিএনপি সরকারের সময় সত্যে কথা বলায় প্রতিহিংসা থেকে আমিও রেহাই পাইনি। আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং আমার বাড়ি পর্যন্ত দখল করা হয়েছিল। সেই মামলা এখনো রয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, আদালতে বোমা মেরে বিচারক হত্যা, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা কী বিএনপির গণতন্ত্রের নমুনা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত