প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অভ্যুত্থানকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করতে পারে মিয়ানমার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক: [২] সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে করা চুক্তির আলোকে দেশটিতে যেই ক্ষমতায় আসুকনা কেন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে না। যদিও প্রত্যাবাসন ইস্যুতে এই অভ্যুত্থানকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করতে পারে দেশটি।

[৩] মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ও জরুরি অবস্থা জারির পর সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায় বাংলাদেশ।

[৪] বাংলাদেশ দৃঢ়তার সঙ্গে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করে।

[৫] রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা নিয়ে আশা প্রকাশ করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে অবিচল থেকেছে।

[৬] বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করছে ঢাকা। এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অব্যাহত থাকবে সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।

[৭] মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট, ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু’চিসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

[৮] দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দেওয়ার আগে সকালে টেলিফোনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালেও মিয়ানমারে সামরিক শাসন ছিল। সেই আমলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়েছিল।

[৯] মিয়ানমারে আবার সামরিক শাসক এলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আলোচনায় অগ্রাধিকার থাকবে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাস করি। এ ধরনের অস্থিরতা প্রতিবেশীদের জন্যও মঙ্গলজনক নয়।

[১০] এদিকে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর পরই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেছেন, যেকোনও দেশের সঙ্গেই সীমান্ত এলাকায় সবসময় নিরাপত্তা জোরদার থাকে। এ বিষয়েও তাই ঘটেছে। আমাদের সদস্যরা সবসময় দায়িত্ব পালন করে। বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

[১১] নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী সু চির সরকারের ওপর খুশি ছিল না। সেই দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে এই অভ্যুত্থান।

[১২] সু’চি গ্রেপ্তার অবস্থাতেই থাকবেন। সেই অবস্থাতেই তাকে থাকতে হবে। এখন এক বছর থাকবে, দুই বছর থাকবে নাকি চার বছর থাকবে, সেটাই দেখার বিষয়।

[১৩] বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সাবেক চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেছেন, মিয়ানমারে এই পরিবর্তন অত্যান্ত খারাপ। আমরা চাইনা কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীরি হাতে থাকুক।

[১৪] মিয়ানমারে গত ৬০ বছর ধরেই এগুলো চলে আসছে এবং বেশিরভাগ সময়ই তারা নিয়ন্ত্রণ করেছে। সর্বশেষ তাদের নিয়ন্ত্রণেই আধা বেসামরিক সরকার ছিলো। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু বলার নেই। আমাদের তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই রোহিঙ্গা প্রত্যাসন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

[১৫] অভূত্থানের ফলে আপতত রোহিঙ্গা ইস্যু চাপা পড়ে গেলো। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তারা যদি কোনো উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে সেটি আমাদের গ্রহণ করা উচিত। যদিও এটার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুটা সামনে নিয়ে আসতেও পারে।

[১৬] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এ জন্য মিয়ানমারের সরকার পরিবর্তনে কোনো পরিবর্তন ঘটবেনা বলেই আমরা আশাকরি।

[১৭] মিয়ানমারে ৭০ ও ৯০ দশকে সামরিক শাসন ছিলো, তখনও প্রত্যাবাসন হয়েছে। গত তিন বছরে সুচি ক্ষমতায় থাকার পরেও রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের কোনো লাভ হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি ভূমিকা রাখছে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

[১৮] জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের মতে, সিভিলিয়ান সরকারের জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভন্ন বিষয়ে ছাড় দিতে হচ্ছে। টেক ওভারের মাধ্যমে তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে।

[১৯] রোহিঙ্গা ইস্যুর সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়াসহ আটক শীর্ষ নেতাদের মুক্তিতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে গ্রহন যোগ্যতা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আভ্যন্তরীণ ইস্যুকে হালকা করার চেষ্টা করতে পারে দেশটির সামরিক বাহিনী।

[২০] অবশ্য এতে করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সেনা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। কারন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের করা চুক্তির বিষয়গুলোতে পরোক্ষ ভাবে তাদেরই মতামত ও প্রভাব ছিলো। সেদিক থেকে এখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় প্রত্যাবাসনে গতি আসবে।

[২১] মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়ে এরই মধ্যে মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট ও ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিসহ শাসক দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত