প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রিটেনে কোভিডে স্কুল বন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি সাড়ে ৩শ বিলিয়ন পাউন্ড

রাশিদ রিয়াজ : ব্রিটেনের ছেলেমেয়েরা কোভিডে যে ৬ মাস স্কুলে যেতে পারেনি এজন্যে দেশটির অর্থনীতিতে অন্তত সাড়ে ৩শ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি গুণতে হবে। এই প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ আয়ে জনপ্রতি ৪০ হাজার পাউন্ড কম আয় করতে পারবে। ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিস তাই স্কুলের ক্লাস ও বছরে শিক্ষাসময় আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। তরুণদের এই শিক্ষা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ডেইলি মেইল

স্কুলের সময় সীমা বৃদ্ধি করার তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে গ্রীষ্মকালীন ছুটির পরিবর্তে ক্লাস নেওয়া প্রয়োজন। প্রচুর রিভিশনের কথাও বলা হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিস বলছে গত গ্রীষ্মে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন স্কুলের ছেলেমেয়েদের এধরনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ১ বিলিয়ন পাউন্ড তহবিলের ঘোষণা দেন। গত সপ্তাহে আরো বাড়তি ৩শ মিলিয়নের তহবিলের বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নেই তা সরবরাহ করতে বেসরকারিভাবে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। দি হাট গ্রুপ নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান এধরনের তহবিলে ৫ লাখ পাউন্ড দিতে রাজি হয়েছে। স্যানট্যান্ডার ব্যাংক দিচ্ছে আড়াইশ ল্যাপটপ। গত আটদিনে ৫৬ লাখ পাউন্ড সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিস বলছে ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় দেড় বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দিয়েছে। এরপরও সমস্যার আকার ও চাহিদা অনুযায়ী এধরনের সহায়তা আরো বৃদ্ধি প্রয়োজন বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ফেব্রুয়ারির হাফ-টার্ম পর্যন্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুখোমুখি শিক্ষার সময়ে ক্ষতির পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ে স্কুলে পাঠদানের অর্ধেক বছরের সমান। ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিস মনে করছে কোভিডে নষ্ট হয়ে যাওয়া পাঠদানের সময় পূরণ করতে হলে স্কুলের ক্লাস বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এখনো ইস্টারের আগ পর্যন্ত ব্রিটেনে অধিকাংশ স্কুল বন্ধ থাকবে। তার মানে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা বছরের দুই তৃতীয়াংশ সময় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাঠদান থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি এই নেতিবাচক প্রভাবে ভবিষ্যতে আজকের শিশুরা ১শ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি কর দিকে অক্ষম হবে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিসের গবেষণায় আরো বলা হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ না নিলে এটি তাদের ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতা হ্রাস করবে যা তাদেরকে নিম্ন আয়ের দিকে ঠেলে দেবে, বৈষম্য বৃদ্ধি করবে এবং সামাজিক অসুস্থতায় তারা আক্রান্ত হবে।

এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে যে জাতীয় বিতর্ক প্রয়োজন ছিল তার অভাব আরো গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এধরনের প্রয়োজনীয় সাড়া দেওয়া জটিল, কঠিন এবং ব্যয়বহুল হলেও ভবিষ্যতে তা আরো বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতিতে রুপান্তরিত হবে। এক্ষেত্রে ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিসের গবেষণায় সময় ও সম্পদ ব্যয়ে আরো মনোযোগী হতে বলা হয়েছে। স্কুল এমনকি কলেজগুলোতে সরাসরি বরাদ্দ দিতে বলা হচ্ছে। যাতে তা দ্রুত শিক্ষার্থীদের বাড়তি পাঠদানে খরচ করা যায়। বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে গবেষণা পত্রে। এ্যাসোসিয়েশন অব স্কুল এন্ড কলেজ লিডার্সের জিওফ বার্টন বলেন সরকারকে অবশ্যই এই নেতিবাচক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বরাদ্দা বাড়াতে হবে। তবে ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র জানান সরকারের তরফ থেকে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা পর্যালোচনা করে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোভিডের সময় শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া পূরণ করা সম্ভব হয়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত