প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তুষার আবদুল্লাহ : চাই হতে তারুণ্যের শেরপা

তুষার আবদুল্লাহ : তারুণ্য ধরে রাখতে লোকে কতো রকম বটিকাই না সেবন করে। শরীরে ডলাই মলাই করে। অবয়বের চাকচিক্য যে কোনো ভাবেই হোক ধরে রাখা চাই। হয়তো সফলও হন তারা। কিন্তু বাহ্যিক রঙ ধরে রাখতে পারলেও ভেতরের পলেস্তরা ক্ষয়ে পড়তে থাকে। কারণ বাইরের জৌলুশ ধরে রাখতে গিয়ে অন্দরের যত্ন নেওয়া হয় না। মন ও মস্তিস্ক অর্থাৎ চিন্তার আদর প্রয়োজন। আমরা সেই আদরটি দিতে চাই না বা এ ব্যাপারে বেখেয়াল থাকি। আমি নিজেও হয়তো তেমনটাই। তবে একটি থেরাপি আমি অনুশীলনের চেষ্টা করি। তরুণদের পাশে হাঁটি। পাশাপাশি হেঁটে না যেতে না পারলে, হাঁটি পেছনে। ছায়া ধরে হাঁটি। যদি তারুণ্যের নির্যাস পাই, তা যেন বুক ভরে টেনে নিতে পারি। আমার অবয়বে বা মনে কতোটা এই নির্যাসের হাওয়া বয়ে যায় তা মেপে দেখিনি কখনও। তবে এতোটুকু বলতে পারি, দিন দুনিয়ার খবরাখবর ঠিক ঠাক পাই। বলা যায় দুনিয়ার থার্মোমিটার হলো তারুণ্য। আমি সেই থার্মোমিটার মুঠোতে নিয়ে হাঁটি। হেঁটে যাই। অফিস ঘরে, ফুটপাতে, চায়ের টঙে কতো কথা বলগ দিয়ে ওঠে। কি অসাধারণ সৌরভ সেই কথার। আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে শুনি। এইতো সেদিন সন্ধ্যাতেও মোঘল সাম্রাজ্যের তাজমহল রোডের এক গলিতে বসেছিলাম। পোড়া মাংস, তন্দুরী চায়ের ঘ্রাণে একাকার ওই গলিতে আমরা এক টঙে বসি। চারদিকে তারুণ্যের আড়ং। আমি তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি, উননের মতোই জ্বল জ্বল করছে তাদের চোখ। আমার সঙ্গেও চার তরুণ। তাদের আহ্বানেই সেখানে যাওয়া। কতো কতো কথা জোনাকির মতো উড়ে বেড়ায়। কতো স্বপ্ন। দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে, কাজের জায়গা নিয়ে তাদের ভাবনার শেষ নেই। অভিযোগ আছে সমাজ কাঠামো নিয়ে ,কাজের জায়গার জলবায়ু নিয়ে। কিন্তু তাই বলে তারা যে হতাশার এঁদো জলে ডুবে যাচ্ছে এমন নয়। তারা জল পরিশোধন করতে চায়। পরিবর্তিত জলবায়ুকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর তারা। তাদের ভাবনায় ব্যক্তি অর্থাৎ নিজের সুখ উপস্থিতি নেই, এমন বলছি না। তবে তারা শুধু ব্যক্তিতেই আবদ্ধ নয়, দশকে নিয়েও ভাবে। তারা জানে দশ ভালো না থাকলে এককের সুখ টেকসই হতে পারে না। এই যে দশ’কে নিয়ে ভাবা, এমন উদার মন কতো জনের আছে? আমি তাদের কাছে উদারতা শিখি। ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে, নির্জন রাস্তায় একা হেঁটে যাওয়ার সাহস কুড়াই। তাই দুই হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে থাকতে চাই, রাখতে চাই জড়িয়ে। সৌভাগ্যবান আমি তরুণরা আমাকে ছেড়ে যায় না। ছুঁয়ে রাখতে দেয় তাদের তর্জনী। আমাদের চারপাশে দীর্ঘশ্বাস আছে। অবিশ্বাস আছে। সংকট অফুরন্ত। এই তিন থেকে মুক্তি নেই। তবে আছে সইয়ে নেবার ব্যবস্থাপত্র। আমি সেই ব্যবস্থাপত্র সঙ্গে নিয়ে হাঁটি। হুম তারুণ্যই সেই ব্যবস্থাপত্র। তারুণ্য উপেক্ষিত সমাজ, রাষ্ট্রে। তাদের আওয়াজ শোনার মানুষ কম। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস বলে, তারুণ্যের আওয়াজ অবহেলা করেছে যে বা যারা, তারাই পিছিয়ে পড়েছে। বদলাতে পারেনি সময়ের সঙ্গে। আমি একক ভাবে বদলে যেতে পারবো না, কিন্তু নিজেকে তো তৈরি করতে পারি, সময়ের সঙ্গে চলতে। তাই তারুণ্যের ছায়াপথের শেরপা আমি। তবে অবশ্যই নিঃসঙ্গ নয়। লেখক : লেখক ও গণমাধ্যম কর্মী

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত