প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খুবির দুই শিক্ষার্থীর দুঃখ প্রকাশ, অনশন ভাঙালেন উপাচার্য

ডেস্ক রিপোর্ট : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালমনাই অ্যাসোশিয়েশনের (কুয়া) মধ্যস্থতায় ৮ম দিনের মতো চলমান আমরণ অনশন থেকে সরে এসেছে দুই শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি দেওয়ার পর সন্ধ্যায় প্রশাসনের শতাধিক ব্যক্তি নিয়ে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান শরবত খাইয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান এবং অতি দ্রুত শৃঙ্খলা কমিটির সভা ডেকে তাদের বিষয়টি সুরাহা করার কথা জানান।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষকরা কখনই ছাত্রের অমঙ্গল চান না, তারা চান ভুলের জন্য শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি বা অনুশোচনা বোধ জাগুক। যাতে তারা ভবিষ্যতে চলার পথে সচেতন হয়, শিক্ষা নেয়। শিক্ষার্থীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেজন্য আমি আজ আবারো তাদের অনশন ভাঙতে এসেছি।

অনশন ভাঙার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইমামুল ইসলাম সোহান জানান, আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সারাদেশে সকল বিবেকবান মানুষ যারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাদের সকলকে আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

অপর শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন নোমান বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা অনশন থেকে সড়ে এসেছি। আশা করি আগামীকাল আমাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।

এর আগে বিকালে শিক্ষার্থীরা আবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর চিঠি দেন। তবে এবার তারা দুঃখ প্রকাশ করে কিছুটা নমনীয় হয়ে চিঠি দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের মধ্যস্থতায় এই চিঠি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের বিধি-বিধান মেনে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ক্ষমা চাওয়া বা দুঃখ প্রকাশের আহবান জানিয়ে আসছিলো।

এব্যাপারে ছাত্র বিষয়ক পরিচালক থেকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় কুয়ার ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং ফরেস্টি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুস সাদাত একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে উপাচার্যের মৌখিক আশ্বাসে অনশন থেকে সরে আসার আহবান জানান।

গত বছর খুবি শিক্ষার্থীদের ৫ দফা আন্দোলনের সময় দুই শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ ও একাডেমিক কাজে বাধাদানের জেরে ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ইমামুম ইসলাম সোহান ও বাংলা ডিসিপ্লিনের মোবারক হোসেন নোমানকে যথাক্রমে ২ বছর ও ১ বছর বহিষ্কার করা হয়। এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে তারা আমরণ অনশনে যান। অনশন চলাকালে গত শনিবার ইমামুল অসুস্থ হয়ে পরলে তার জায়গায় জোবায়ের হোসেন অনশন শুরু করেন। অন্যদিকে গত রোববার নোমানও অসুস্থ হয়ে পরলে তার জায়গায় মুজাহিদুল ইসলাম অনশন শুরু করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন নোমান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফিরে আবারো অনশনে যোগ দেন। অপর শিক্ষার্থী ইমামুল ইসলাম সোহানও একদিন আগে হাসপাতাল থেকে ফিরে আবার অনশনে যোগ দেন।-সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত