প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৩৮ পৃষ্ঠার গাইডলাইন পৌঁছেছে, খোলা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষকদের মতে, গাইডলাইন এতো দীর্ঘ না হলে সুবিধা হতো

প্রিয়াংকা আচার্য্য: [২] করোনার ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে ক্লাস পরিচালিত হবে সে বিষয়ে ৩৮ পৃষ্ঠার গাইডলাইন দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রোববার পৌঁছে গেছে। সেইসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) স্কুল-কলেজ খোলার ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপের কথাও জানিয়েছে।

[৩] মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের জানান, ‘স্কুল-কলেজ ৪ ফেব্রæয়ারির মধ্যে খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে এখনও কবে নাগাদ খুলতে পারে তা ঠিক হয়নি।’‘আর স্কুল খুললেও অনলাইন ক্লাস চালু থাকবে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার বিষয়টিও ফ্লেক্সিবল থাকবে। অর্থাৎ কেউ যদি মনে করে বাসায় থেকে ক্লাস করবে, সে তা করতে পারবে। তাদের জন্য অনলাইন ক্লাস, টিভি ক্লাস চালু থাকবে।’

[৪] রাজধানীর মিতালী বিদ্যাপিঠ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শাহীন আরা নাসরিন বলেন, ৪ ফেব্রæয়ারির মধ্যে স্কুল খোলার প্রস্তুতি নিতে আমাদের বলা হয়েছে। আর কীভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলবে সে বিষয়ে গাইডলাইনটিও আমরা পেয়েছি। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিচ্ছি।

[৫] তবে নারায়ণগঞ্জের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিকের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আমরা রোববার গাইডলাইনটি পেয়েছি। ইতিমধ্যে সে অনুযায়ী স্কুল থেকে আমাদের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তবে এটি এতো দীর্ঘ না হয় সংক্ষিপ্ত হলে আমাদের নির্দেশনা বুঝতে ও তা মানতে সুবিধা হতো।

[৬] একই কথা বলেছেন রাজশাহীর এক মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তার মতে, গাইড লাইনটি দীর্ঘ হওয়ায় আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়েছে। অল্প পৃষ্ঠার মধ্যে হলে তা পড়তে সুবিধা হতো। দেশের আরও বিভিন্ন স্থানের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, অনেকে নির্দেশাবলী বুঝলেও গাইডলাইনটি দীর্ঘ হওয়ায় কেউ কেউ অনেকগুলো পয়েন্ট মিস করে গেছেন।

[৭] প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত নির্দেশনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ করে এই নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাবলী মানতে হবে বলেও বলা হয় গাইড লাইনে।

[৮] উল্লিখিত গাইডলাইনে বলা হয়, ৫ ফুটের ছোট বেঞ্চে বসবে একজন শিক্ষার্থী আর ৫ ফুটের চেয়ে বড় বেঞ্চে (৬ ফুট) বসবে দুই জন শিক্ষার্থী। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ৩ ফুট। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে বেঞ্চের একটি কলাম ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে। একইসঙ্গে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনার গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে গাইডলাইনে। এছাড়া স্কুলে ঢোকার আগেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের শিফট করে বিদ্যালয়ে আনতে হবে।

[৯] শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ৪ ফেব্রæয়ারির মধ্যে বিদ্যালয় খোলার পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আদেশ জারি করা হয় গত ২৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে। একইসঙ্গে প্রকাশ করা হয় বিদ্যালয় পরিচালনার গাইডলাইন। স্কুল, কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয় যেকোনও সময় বিদ্যালয় খোলার জন্য।

[১০] প্রাথমিকের গাইডলাইনে হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার, তাপমাত্রা মাপা, দুইবার শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী সবাইকে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। শারীরিকভাবে অসুস্থ শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী বিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সন্তানসম্ভবা নারী শিক্ষকদের কোনোভাবেই বিদ্যালয়ে আনা যাবে না।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত