প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত : নেতাজী সুভাষ বসু ছিলেন শেষ সিংহ পুরুষ, যার গর্জনে কাবু হতো ব্রিটিশ

অজয় দাশগুপ্ত : শুধু পাকিস্তানেই নয়, গণতান্ত্রিক ভারতের রাজনীতিতেও ছিলো বাঙালি বিদ্বেষ। সে সময় একটা কথা চালু ছিলো, What Bengal thinks today India thinks tomorrow. হয়তো এসব কারণে তাদের জাতির জনক গান্ধীও বাঙালি নেতাকে সহ্য করতে পারতেন না। কী যে বৈপরিত্যমূলক আচরণ। যে গান্ধী মন খারাপ হলে রবীন্দ্রনাথের, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে শুনতেন, শান্তি নিকেতনে এসে সময় কাটাতেন সেই তিনি কংগ্রেসের ত্রিপুরা অধিবেশনে বিজয়ী সুভাষকে মানতে নারাজ ছিলেন এবং প্রকাশ্যে বিজয়ী বাঙালির বিরোধিতা করেন। যে কারণে সুভাষকে কংগ্রেস ছেড়ে অন্য দল গঠন করতে হয়েছিল। বদলে গেছিল ভারতের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির গতিপথ। পরবর্তীকালে হিটলারের সাথে সাক্ষাৎ জাপানের সহযোগী হওয়া তাকে বিতর্কিত করে তোলে। পৃথিবী ও সভ্যতার কারণে এই পথ মানা যায় না।
কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে তিনিই ছিলেন শেষ সিংহ পুরুষ যার গর্জনে কাবু হতো ব্রিটিশ। বহুকাল আগে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আমায় রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো’। এর অনেক বছর পর আরেক বাঙালি যিনি তার তরুণ বেলায় বন্দী নেতাজীকে দেখে মনোবল বাড়িয়ে এসেছিলেন সেই নেতা লাখো মানুষের সমুদ্রে বললেন, রক্ত যখন দিয়েছি তখন রক্ত আরওদেবোÑ তবুও এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশা আল্লাহ। তিনি পেরেছিলেন বাঙালিকে স্বাধীনতা দিয়ে যেতে। যিনি বাঙালি হয়ে ভারতবর্ষের এক ও অনন্য নেতা তিনি হয়ে রইলেন ত্যাগ আর অন্তর্ধানে এক রহস্য পুরুষ। একটি বিশেষ কারণে তার জন্য গভীর মমতা অনুভব করি। তার জননীর মতো আমার মায়ের নামও যে প্রভাবতী। সুভাষ বসুর জন্মদিন ছিলো ২৩ জানুয়ারি।

সর্বাধিক পঠিত