প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কারাগারে বন্দির নারীসঙ্গ: ডেপুটি জেলারসহ ৩ জন প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : [২] নিয়ম ভেঙে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর ভেতরে নারীর সঙ্গে হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতা তানভীরের অন্যতম সহযোগী ভায়রা কারাবন্দি তুষারের দীর্ঘসময় কাটানোর ঘটনায় ডেপুটি জেলার মো. গোলাম সাকলাইনসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

[৩] প্রত্যাহার করা বাকি দুজন হলেন সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান।

[৪] শুক্রবার কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, প্রত্যাহার করা তিনজনকে কারা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট যে কোনও উর্দ্ধতন কর্মকরতাদেরও প্রয়োজনে প্রত্যাহার করা হতে পারে।

[৫] গত ১৮ জানুয়ারি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশনামায় ওই তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশনামায় মন্তব্যের জায়গায় লেখা রয়েছে- প্রশাসনিক কারণে। আদেশটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করতেও বলা হয়েছে।

[৬] গত ৬ জানুয়ারির এ ঘটনায় অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত গঠিত হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- উপসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লাহ ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবির। কমিটির সদস্যরা বৃহস্পতিবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ গিয়ে তদন্ত করেছেন।

[৭ ] এছাড়া গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তিন সদস্যের পৃথক তদন্ত টিম গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। কমিটি ইতোমধ্যে কারাগারের ভেতরে কারাবিধি ভঙ্গ করে বন্দির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর প্রকৃত সত্যটা বুঝতে পারবো। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

[৮] গত ৬ জানুয়ারি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর ভেতরে বন্দি তুষারের সঙ্গে কারাগারের দেখা করেন এক নারী। অবৈধভাবে এ সুযোগ করে দেন জেল সুপার রত্না রায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

[৯] সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ৬ জানুয়ারি কারাগারের পার্ট-১ এ বন্দি হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতা তানভীরের ভায়রা কোম্পানির জিএম তুষার কারা কর্মকর্তাদের অফিস এলাকায় কালো রঙের জামা পরে স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করছেন। কিছু সময় পর ১২টা ৫৬ মিনিটে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও ডেপুটি জেলার সাকলাইনের উপস্থিতিতে বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে প্রবেশ করেন। ওই নারীর সঙ্গে দুই যুবকও ছিলেন। ডেপুটি জেলার সাকলাইন ১২টা ৫৭ মিনিটে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে ১টা ৪ মিনিটে তুষারকে সাথে নিয়ে ওই নারীর সাথে সাক্ষাৎ করতে একটি কক্ষে নেন। ১টা ১৫ মিনিটে জেল সুপার কারাগার থেকে বের হয়ে যান। এরপর তুষার একটি কক্ষে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় কাটান ওই নারীর সঙ্গে।

[১০] এ ঘটনায় জেল সুপার রত্না রায়ের সাথে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
তবে ডেপুটি জেলার সাকলাইন সাংবাদিকদের জানান, জেল সুপার স্যারের অনুমতিতেই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, আমার কি ক্ষমতা আছে, জেলের ভেতর থেকে আসামি নিয়ে আসবো। গেট অর্ডার, যৌথ বাহিনী, হাবিলদার, সুবেদার আছে। আমি একাই আসামি নিয়ে আসলাম। এটা কি সম্ভব!

[১১] ভিডিও ফুটেজে তাকেই আসামি নিয়ে আসতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি তুললে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিই তো নিয়ে এসেছি। এটা তো অস্বীকার করছি না। আমাকে বলেছে তাই আমি আনতে গেছি। আমাকে না বললে তো আর আমি আনতে যেতাম না।’

[১২] দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি কারণে হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও তার ভায়রা প্রতিষ্ঠানের জিএম তুষার ২০১২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। সম্পাদনা: ফরহাদ বিন নূর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত