প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাদী মুহাম্মাদ আলোক : ধাপে ধাপে সাবধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা উচিত : রাশেদা কে চৌধুরী, বালুর মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে ভালো আছি ভাবাটা খুবই দুঃখজনক : অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে যাচ্ছে : অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস

সাদী মুহাম্মাদ আলোক : রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘সবাই চাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলুক। কিন্তু, এখনো কেন বন্ধ? এখানে ধারণাগত দুটো উত্তর রয়েছে। প্রথমত, বাকি সব খোলাটা ব্যক্তিগত পছন্দ। আমি শপিং মল, চিড়িয়াখানা কিংবা সিনেমা হলে যাব কি না, সেটা আমার ইচ্ছা। কিন্তু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সেটার সব দায়-দায়িত্ব কিন্তু সরকারের ওপর বর্তাবে। তখন সবাই কিন্তু সরকারকেই দোষারোপ করবে। শুরুর দিকের পরিস্থিতি মনে করলে দেখবেন, তখন সবাই কিন্তু বলেছিলো যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন এখনো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার দায়িত্ব নিয়ে খুলতে গেলে তিনটি বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। সেগুলো হলো— স্বাস্থ্যঝুঁকি, করোনার সংক্রমণ লাগামের মধ্যে এসেছে কি না ও স্বাস্থ্যবিধি মানা যাবে কি না। সত্যি বলতে আমরা সবাই ভালোভাবে জানি যে, অনেক প্রতিষ্ঠানের সেই (স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার) সক্ষমতা নেই। দ্বিতীয়ত হলো এটাই যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে গেলে সেই প্রস্তুতিগুলো নিয়েই খুলতে হবে।’

সবকিছুই যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো কেন বন্ধ? একই প্রশ্ন রেখে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘অন্যান্য যেসব দেশে করোনা পরিস্থিতি আমাদের চেয়ে ভয়াবহ, সেখানেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। পরিস্থিতি অতিরিক্ত খারাপ হলে কিংবা লকডাউন থাকা ছাড়া সেসব দেশের সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে কীভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে রাখা যায়। কিন্তু, আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি তেমন খারাপ না হওয়া সত্ত্বেও সেরকম চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে, সেই অনুযায়ী তো আমাদের পরিস্থিতি তেমন খারাপ না। পথে-ঘাটে বের হলেও তাই মনে হয়। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো প্রচেষ্টা কেন দেখছি না?’ ‘এই বয়সেই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সামাজিকতা শেখার কথা। কিন্তু, দীর্ঘ প্রায় এক বছর ঘরে বসে থেকে তাদের যে মেন্টাল ট্রমা তৈরি হয়েছে, তারা যে ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, এই ক্ষতি অপূরণীয়। ভবিষ্যতে কীভাবে এই ক্ষতি পূরণ করবে? শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে সরকার সেভাবে ভাবছে, সেই ভাবনাটাই তাদের মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সরকার নিরাপদে থাকছে। ভাবছে, যদি সংক্রমণ বেড়ে যায়, তাহলে বিপদে পড়তে হবে। তারচেয়ে বন্ধ করে রাখাই উত্তম। কিন্তু, এভাবে বালুর মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে আমি ভালো আছি ভাবা, এটা তো খুবই দুঃখজনক’, বলেন তিনি।

যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসও। তিনি বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ-ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু, এই যুক্তিটা টেকসই না। যদি অন্য সবকিছুই খোলা থাকে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন খোলা রাখা যাবে না? এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের বয়সও কম, সেক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকিও কিন্তু তুলনামূলক কম। আমার মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে না খোলার পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। কারণ, হলগুলো যদি খুলে দেয় এবং কোনো শিক্ষার্থী যদি মারা যায়, তখন মরদেহ নিয়ে মিছিল হতে পারে। তাই সরকার রাজনৈতিকভাবে ভয় পাচ্ছে কি না, এমনটাও হতে পারে। সরকার তো আন্দোলনকে ভয় পায়। ফলে সেটাও একটা কারণ হতে পারে। অন্যথায় খুলে না দেওয়ার কারণ আমি দেখছি না।’

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রোবায়েত ফেরদৌস আরও বলেন, ‘প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের বাইরে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে গিয়েছে, যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, বাল্যবিয়ে বেড়েছে, সব মিলিয়ে ভালো কোনো কিছু হচ্ছে না। সরকারের প্রতি আমার আহ্বান, তাৎক্ষণিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পুরো জাতির জন্য বিশাল ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।’ সূত্র : ডেইলি স্টার

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত