প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চাকরির কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো তারা

সুজন কৈরী : [২] হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণাধীন টার্মিনাল-৩ এ লোভনীয় পদে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চক্রের মূলহোতা ও দপর্ণ গ্রুপ অব কোম্পানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম সোহাগ (৫২), ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেনা জহির (৫০) ও ম্যানেজার মিল্টন রায় ওরফে অপূর্ব অপু (২৮)।

[৩] সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমার নির্দেশ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

[৪] সিআইডি বলছে, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চক্রটি অন্তত ১৫০ ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নির্মাণাধীন টার্মিনাল-৩ এ শ্রমিক-সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লেবার প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতো তারা।

[৫] বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ভুয়া প্রতিষ্ঠানটি স্যামসাং গ্রুপের নামে একটি ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার প্রস্তুত করে তাদের অফিসের সামনে ডিজিটাল ব্যানারে ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এ দক্ষ ও অদক্ষ লেবার ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়া হবে’ এমন একটি বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে রাখে। চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে চাকরি প্রত্যাশী ভুক্তভোগী অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।

[৬] সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, চাকরি প্রত্যাশীরা লেবার প্রতি ৫০ হাজার টাকা ও সুপারভাইজার প্রতি এক লাখ টাকা করে কোম্পানিতে জমা দেন। এভাবে অন্তত ১৫০ জন চাকরিপ্রত্যাশী দর্পণ গ্রুপ অব কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে টাকা দেওয়ার পর তাদের ভুয়া নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়। ভুক্তভোগীরা নিয়োগপত্র নিয়ে যোগদানের নির্দিষ্ট তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এরপর প্রতারিতরা দর্পণ গ্রুপের অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে তাদের অপেক্ষা করতে বলে ঘুরাতে থাকে চক্রের সদস্যরা।

[৭] এদিকে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সন্দেহ হলে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এ চাকরি দেয়ার জন্য চক্রের সদস্যদের কোম্পানি অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্যামসাং কোম্পানী ওয়ার্ক অর্ডার দেয়নি।

[৮] অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

[৯] এদিকে ভুক্তভোগী চাঁদপুরের বাসিন্দা সুজন বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে সরকার মার্কেটের তিন তলায় ডিজিটাল ব্যানার লাগানো দেখি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। আগ্রহী হয়ে কথা বলতে যাই। দর্পণ নামে ওই অফিস থেকে জানানো হয়, সুপারভাইজার পদে এক লাখ, অদক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা দিলেই চাকরি হয়ে যাবে। আমরা চলে আসি। দুদিন পর ভাইভা নেন, নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে তিনজনকে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে হাতে নিয়োপত্র ধরিয়ে দিয়ে আড়াই লাখ টাকা নেয় কোম্পানীটি। এরপর দিন পার হতে থাকে। নভেম্বর মাস পেরিয়ে গেলেও চাকরি হয় না। আবার করোনা টেস্টের কথা বলে আরও ৫ হাজার করে টাকা নেয়া হয়। তারপরও চাকরি না হওয়ায় আমাদের সন্দেহ হলে সবাই বিমানবন্দরে যাই। এরপরই জানতে পারি প্রতারণার শিকার হয়েছি। সম্পাদনা: ফরহাদ বিন নূর

সর্বাধিক পঠিত