প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: অযত্ন ও অবহেলায় কোটি টাকার ফার্ণিচার

অপূর্ব চৌধুরী: [২] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নিচতলায় অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে বিপুলসংখ্যক ফার্ণিচার। যার ফলে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকা মূল্যের এসব ফার্ণিচারের গুণগত মান। দীর্ঘদিন ধরে এসব ফার্নিচার পড়ে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

[৩] সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নিচতলার বামপাশে আড়াআড়িভাবে রাখা আছে ২১টি সংযুক্ত বেঞ্চ। ডানপাশে ১টি ডেস্ক, ৩টি কাঠের টেবিল, ১জোড়া সোফা, একটি কাঠের শেলফ, ২০টি কাঠের চেয়ার এবং ৮টি বেঞ্চ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় এসব ফার্ণিচার ঢেকে আছে ধুলাবালিতে। টেবিল, চেয়ার ও সোফার ওপরে পড়ে আছে কাঠের টুকরো, ড্রামের মুখসহ বিভিন্ন পদার্থ। বামপাশে টিনের ছাউনি তৈরি করে সেখানে রাখা হয়েছে লিফটের বিভিন্ন সরঞ্জাম।

[৪] বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডোর গেমস এর নির্ধারিত জায়গাতেও পড়ে আছে প্রায় অর্ধশত কাঠের চেয়ার, চারটি ডেস্ক, সোফার ফোমসেট। এসময় ইনডোর গেমসে ব্যাবহৃত ক্যারাম বোর্ডগুলোকে ফার্ণিচারগুলোর মাঝামাঝি এবং এক কোণায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের জায়গাতেও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে ১৬টি কাঠের চেয়ার, ৫টি ডেস্ক, ৩টি টেবিল এবং ৬টি বেঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে আড়াআড়িভাবে ও উল্টিয়ে রাখার ফলে নষ্ট হচ্ছে এসব ফার্ণিচারের গুণগতমান।

[৫] জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হল, বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষকদের রিকুইজিশন সাপেক্ষে গত বছরের ২০জুন এসব ফার্ণিচার আনা হয়। বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়নে ক্রয়কৃত এসব ফার্ণিচারের মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

[৬] বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষকদের রিকুইজিশন সাপেক্ষে ক্রয় করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষকদের চাহিদার অভাব, করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থাকা, স্টোররুমের অভাব, শ্রমিক স্বল্পতাসহ বেশ কয়েকটি কারণে দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে একই জায়গায় পড়ে আছে বিপুলসংখ্যক ফার্ণিচার।

[৭] এই প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

[৮] পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, শিক্ষকদের রিকুইজিশনের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেই তালিকা সাপেক্ষে এসব ফার্ণিচার দিয়ে দেওয়া হবে। তাহলে আর এসব ফার্ণিচার এখানে থাকবে না।

[৯] পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আলী আহমেদ বলেন, করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকা এবং স্টোরের অভাবে ফার্ণিচারগুলো এখানে পড়ে আছে।বিভিন্ন বিভাগ শিক্ষকদের চাহিদা সাপেক্ষে এসব ফার্ণিচার দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু ফার্ণিচার আছে যেগুলো ছাত্রীহলের জন্য কেনা হয়েছে।তার মধ্যে অধিকাংশ ফার্ণিচারই ছাত্রী হলে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুতই দিয়ে দেওয়া হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত